আয় ভালো হলেও অনেকের পক্ষে সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হয় না। মাস শেষে বেতনের বড় অংশ খরচ হয়ে যায়, সঞ্চয়ের জন্য অবশিষ্ট থাকে সামান্যই। এর পেছনে শুধু কম আয় দায়ী নয়, বরং কিছু আর্থিক ভুল সিদ্ধান্ত ও অভ্যাসও বড় ভূমিকা রাখে। অপ্রয়োজনীয় খরচ, অতিরিক্ত ঋণ, সাধ্যের বাইরে কেনাকাটা এবং ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ না করার মতো বিষয়গুলো ধীরে ধীরে আর্থিক অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ধনী হতে না পারার পেছনে ছয়টি সাধারণ আর্থিক ভুলের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই দৈনন্দিন জীবনে এসব ভুল করে থাকেন। চলুন, জেনে নেওয়া যাক কোন অভ্যাসগুলো আপনার সম্পদ গড়ে তোলার পথে বাধা হতে পারে।
১. অপ্রয়োজনীয় খরচের অভ্যাস
ছোট ছোট খরচকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। নিয়মিত বাইরে খাওয়া, রেস্টুরেন্টে আড্ডা, অপ্রয়োজনীয় অনলাইন কেনাকাটা কিংবা শখের পেছনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করলে মাস শেষে বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে যায়। যেমন, প্রতি সপ্তাহে অপ্রয়োজনে এক হাজার টাকা খরচ করলে বছরে ব্যয় দাঁড়ায় ৫২ হাজার টাকা। এই অর্থের কিছু অংশ সঞ্চয় করতে পারলে ভবিষ্যতে আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তোলা সহজ হতে পারে।
২. প্রয়োজন না থাকলেও সাবস্ক্রিপশন চালু রাখা
নেটফ্লিক্স, হইচই, বিভিন্ন অ্যাপের প্রিমিয়াম সুবিধা কিংবা জিমের সদস্যপদ অনেকেই একাধিক সাবস্ক্রিপশন নিয়ে রাখেন। কিন্তু সব সেবা নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না। অথচ প্রতিমাসে এসবের বিল পরিশোধ করতে হয়। তাই কোন সেবাটি সত্যিই প্রয়োজন, তা যাচাই করে অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন বন্ধ করা উচিত।
৩. ক্রেডিট কার্ডের অতিরিক্ত ব্যবহার
ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনের বাইরে কেনাকাটা করলে আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করতে না পারলে বকেয়া অর্থের ওপর সুদ ও অন্যান্য চার্জ যুক্ত হতে পারে। ফলে কেনা পণ্যের প্রকৃত দামের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়। তাই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে খরচের সীমা ও পরিশোধের পরিকল্পনা থাকা জরুরি।
৪. ঋণ নিয়ে দামি গাড়ি কেনা
অনেকেই আর্থিক সামর্থ্যের চেয়ে বেশি দামের গাড়ি কেনার জন্য ঋণ নেন। কিন্তু গাড়ির কিস্তি দেওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, বিমা ও অন্যান্য খরচও বহন করতে হয়। তাছাড়া গাড়ি সাধারণত সময়ের সঙ্গে মূল্য হারায়। তাই শুধু মাসিক কিস্তি দেওয়ার সক্ষমতা বিবেচনা করে গাড়ি কেনা ঠিক নয়; মোট ব্যয়ের হিসাব করাও জরুরি।
৫. আয়ের তুলনায় বেশি দামের ফ্ল্যাট কেনা
নিজের বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। তবে আয়ের তুলনায় অতিরিক্ত দামি সম্পত্তি কিনলে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। বাড়ির ঋণের কিস্তির পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য খরচও রয়েছে। তাই সম্পত্তি কেনার আগে সব ধরনের ব্যয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
৬. ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় ও বিনিয়োগ না করা
বর্তমানের আয় ও ব্যয়ের হিসাব করতে গিয়ে অনেকেই ভবিষ্যতের কথা ভাবেন না। অবসরজীবন কিংবা জরুরি পরিস্থিতির জন্য অর্থ জমিয়ে না রাখলে পরবর্তী সময়ে আর্থিক সংকটে পড়তে হতে পারে। তাই আয় অনুযায়ী নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। নিজের আর্থিক অবস্থা ও ঝুঁকি বিবেচনা করে উপযুক্ত বিনিয়োগের মাধ্যমও বেছে নেওয়া যেতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, সম্পদ গড়ে তোলার জন্য শুধু বেশি আয় করাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা ও ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ। অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো, ঋণ ব্যবহারে সতর্ক থাকা এবং নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন