দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্র তুলে ধরতে জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিশ্লেষণ ও প্রকাশ সব পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি তথ্য সবার জন্য সহজলভ্য করার উদ্যোগও চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, নীতিনির্ধারণ, গবেষণা ও সরকারি সেবা কার্যক্রমে নির্ভরযোগ্য তথ্যের বিকল্প নেই। গত ১৭ বছরে প্রকাশিত অনেক পরিসংখ্যান দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরতে পারেনি। তাই তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে বাস্তব চিত্র নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

রাজধানীর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মিলনায়তনে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান : টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পনার ভিত্তি’ প্রতিপাদ্যে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বিবিএস যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তিতুমীর জানান, সংস্কার কার্যক্রমে তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো আন্তর্জাতিক মানের পরিসংখ্যান তৈরি, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সরকারি নীতি ও সেবা কার্যক্রম পরিচালনা এবং উন্মুক্ত তথ্যনীতির মাধ্যমে সরকারি উপাত্ত সহজলভ্য করা।

পরিসংখ্যানের নির্ভুলতা বাড়াতে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিও আধুনিক করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ভূস্থানিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং কম্পিউটার-সহায়তায় ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার পদ্ধতি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে তথ্য সংগ্রহকারীদের অবস্থান যাচাইয়ের পাশাপাশি পরিবারভিত্তিক তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো সম্ভব হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পরিসংখ্যান তৈরি বা বানানো যাবে না, তা সংগ্রহ করতে হবে।’

অতীতের তথ্যের অসংগতির উদাহরণ দিতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, একসময় দেশে ইঞ্জিনচালিত নৌকার সংখ্যা সরকারি হিসাবে প্রায় ১৩ হাজার দেখানো হয়েছিল। অথচ প্রকৃত সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার। জিডিপিসহ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচকের তথ্যও পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রকৃত উপকারভোগী চিহ্নিত করতেও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি চালুর কথা বলেন তিতুমীর। যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন এবং অযোগ্য কেউ যাতে তালিকায় না আসেন, সে জন্য প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এ ধরনের পদ্ধতি অনুসরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া জনসংখ্যা, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারের মধ্যে সমন্বয় করতে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের জন্য সরকারি পরিসংখ্যান উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে গবেষণার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার।