জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁদের সমাধিতে ফুল দেওয়ার পাশাপাশি আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দুই নেতার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সেখানে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি ৭ নভেম্বরকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, স্বাধীনতার পর একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে জাতি আবার নতুন করে পথ খুঁজে পায় এবং উন্নয়ন ও উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদা অর্জন করে।

রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাঁর দাবি, পরবর্তী সময়েও নানা ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে ৭ নভেম্বরের আদর্শের যোগসূত্র রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, দেশের বাইরে অবস্থানরত ষড়যন্ত্রকারীদের অর্থায়নে কিছু দুষ্কৃতকারী এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এ ধরনের তৎপরতা জনগণ প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি ফ্যাসিস্ট শক্তিকে আবার দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিএনপি সব অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। তবে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, অতীতের শাসনব্যবস্থা এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে তাঁর বক্তব্যের বেশির ভাগই রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।