৩০ বছর বয়স থেকেই সুস্থ থাকার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এই বয়স থেকেই শরীরের পেশির শক্তি, হাড়ের ঘনত্ব এবং বিপাকীয় কার্যক্রমে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এখন থেকেই নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুললে ৭০ বছর বয়সেও সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা সহজ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বক ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ অন এজিংয়ের প্রেসিডেন্ট এরিক ভারদিনের মতে, জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারলে অনেকের পক্ষেই ৯০ থেকে ৯৫ বছর বয়স পর্যন্ত সুস্থ থাকা সম্ভব। তবে এজন্য বয়স বাড়ার আগেই শরীরের যত্ন নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০ বছর বয়সে শরীরের শারীরিক সক্ষমতা যতটা সম্ভব ভালো পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা, পেশির শক্তি, নমনীয়তা এবং হাঁটাচলার সক্ষমতা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত খেলাধুলা, সাইকেল চালানো, টেনিস ও ব্যাডমিন্টন শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট দ্রুত হাঁটাও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে খাবারের পর কিছুক্ষণ হাঁটলে শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে পড়ে যাওয়া ও চলাফেরায় সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি কমাতেও পায়ের পেশি শক্ত রাখা প্রয়োজন।

শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখাও দীর্ঘায়ুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে দাঁত ও মাড়ির যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা, দাঁতের পরীক্ষা করানো, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার কম খাওয়া প্রয়োজন। গবেষণায় মাড়ির রোগের সঙ্গে পরবর্তী জীবনে স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। মাড়ির দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ শরীরে প্রভাব ফেলতে পারে, যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্যও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তাই ছোটবেলা থেকেই মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম সুস্থ থাকার অভ্যাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করা উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মিত ঘুম শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে এবং শরীরের বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা বা গ্রহণ কমানোর পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়া জরুরি। প্রতিদিনের খাবারে ফলমূল, শাকসবজি ও পুষ্টিকর খাবারের পরিমাণ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। বিশেষ করে গাজর, মিষ্টি আলু, আম ও এপ্রিকটের মতো খাবারে থাকা ক্যারোটিনয়েড শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসজনিত ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনিযুক্ত খাবার কম খাওয়া ভালো। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার গ্রহণ এবং খাবারের মাঝখানে পর্যাপ্ত বিরতি রাখার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুরু করার আগে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও পুষ্টির চাহিদা বিবেচনা করা জরুরি।

গবেষকদের মতে, ৩০ বছর বয়সে গড়ে তোলা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস পরবর্তী কয়েক দশক পর্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়সে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা ব্যক্তিদের হৃদরোগ, স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং শারীরিক দুর্বলতার ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে। যদিও বয়স বাড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবে সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমে এর প্রভাব কমানো এবং দীর্ঘদিন কর্মক্ষম থাকা সম্ভব। তাই সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য এখন থেকেই নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।