মলদ্বারের ফিস্টুলা একটি যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা, যা অবহেলা করলে দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা তৈরি হতে পারে। এটি মূলত মলদ্বারের ভেতরের সংক্রমিত অংশের সঙ্গে আশপাশের ত্বকের সংযোগ তৈরি করা একটি অস্বাভাবিক নালি বা সুড়ঙ্গ। সাধারণত মলদ্বারের ছোট গ্রন্থিতে সংক্রমণ হয়ে ফোড়া তৈরি হওয়ার পর এই সমস্যা দেখা দেয়। কিছু ক্ষেত্রে ফোড়া দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ফিস্টুলায় রূপ নিতে পারে।

মলদ্বারের ফিস্টুলা হওয়ার প্রধান কারণ হলো মলদ্বারের গ্রন্থিতে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ও ফোড়া। এ ছাড়া ক্রোনস ডিজিজ বা অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ, যক্ষ্মা, মলদ্বারে আঘাত, কিছু যৌনবাহিত সংক্রমণ, রেডিওথেরাপি এবং বিরল ক্ষেত্রে ক্যানসারের সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে ফিস্টুলা হওয়ার কারণ এক নয়।

এই রোগের অন্যতম লক্ষণ হলো মলদ্বারের আশপাশে বারবার ফোড়া হওয়া। এ ছাড়া ওই স্থানে ব্যথা, ফোলাভাব, জ্বালাপোড়া এবং ত্বকের ছোট ছিদ্র দিয়ে পুঁজ বা দুর্গন্ধযুক্ত তরল বের হতে পারে। কখনো রক্তমিশ্রিত তরলও নিঃসৃত হয়। মলত্যাগের সময় ব্যথা কিংবা জ্বর দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন।

ফিস্টুলা শনাক্ত করতে চিকিৎসক প্রথমে মলদ্বারের আশপাশের অংশ পরীক্ষা করেন। নালির অবস্থান ও গভীরতা নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যানোস্কপি, আলট্রাসাউন্ড অথবা এমআরআই পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া ক্রোনস ডিজিজ, যক্ষ্মা বা অন্য কোনো রোগের সন্দেহ থাকলে অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

মলদ্বারের ফিস্টুলা সাধারণত নিজে থেকে সম্পূর্ণ ভালো হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থায়ী চিকিৎসার জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। সহজ ধরনের ফিস্টুলায় ফিস্টুলোটমি পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। অন্যদিকে জটিল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে মল ধরে রাখার স্ফিংকটার পেশি সুরক্ষিত রাখতে সেটন বা অন্যান্য বিশেষ অস্ত্রোপচার পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। ফিস্টুলার ধরন ও রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসক উপযুক্ত পদ্ধতি নির্ধারণ করেন।

অস্ত্রোপচারের পর ক্ষতস্থান পরিষ্কার রাখা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কুসুম গরম পানিতে সিটজ বাথ নেওয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য এড়িয়ে চলা জরুরি। মলদ্বারের আশপাশে বারবার ফোড়া, পুঁজ, দুর্গন্ধযুক্ত তরল, তীব্র ব্যথা, ফোলাভাব বা জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে কোলোরেকটাল সার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।