৯৯ ডিগ্রি জ্বর হলেই কি চিন্তার কারণ? থার্মোমিটারে শরীরের তাপমাত্রা ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট দেখলে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রাকে সাধারণত জ্বর হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ব্যক্তিভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে। বয়স, শারীরিক অবস্থা, দিনের সময় এবং তাপমাত্রা মাপার পদ্ধতির ওপরও এর পার্থক্য নির্ভর করে। তাই শুধু থার্মোমিটারের একটি সংখ্যা দেখেই অসুস্থতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

দীর্ঘদিন ধরে ৯৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটকে মানুষের শরীরের গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সবার শরীরের তাপমাত্রা যে এই সংখ্যার মধ্যেই থাকবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। কারও স্বাভাবিক তাপমাত্রা কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে। সাধারণত সকালে শরীরের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে এবং বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে কিছুটা বাড়তে পারে। এ কারণে দিনের বিভিন্ন সময়ে তাপমাত্রা মাপলে ভিন্ন ফল পাওয়া স্বাভাবিক। একবার ৯৯ ডিগ্রি দেখেই জ্বর হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

শরীরের তাপমাত্রা সাময়িকভাবে বেড়ে যাওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, ব্যায়াম, গরম পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকা কিংবা মানসিক চাপের কারণে শরীরের তাপমাত্রায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চক্রের নির্দিষ্ট সময়েও তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। এছাড়া খাবার গ্রহণের পর বা পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিলেও শরীরের স্বাভাবিক অবস্থায় সাময়িক পরিবর্তন আসতে পারে। তাই তাপমাত্রা বেশি মনে হলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার থার্মোমিটারে মেপে দেখা যেতে পারে।

সাধারণভাবে ১০০ দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস কিংবা তার বেশি তাপমাত্রাকে জ্বর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে বয়স এবং শরীরের কোন অংশে তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে, তার ওপর জ্বর নির্ণয়ের সীমা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। মুখে, বগলে বা কানে তাপমাত্রা মাপার ফল এক রকম নাও হতে পারে। তাই সঠিকভাবে থার্মোমিটার ব্যবহার করা জরুরি। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা মানুষের ক্ষেত্রে তাপমাত্রার পরিবর্তন গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

৯৯ ডিগ্রি জ্বর মনে হলেও এর সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ রয়েছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, কাঁপুনি, গলাব্যথা, কাশি কিংবা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। আবার তীব্র শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। বিশেষ করে তিন মাসের কম বয়সী শিশুর তাপমাত্রা ১০০ দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা বেশি হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

তাই থার্মোমিটারে ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট দেখলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে শরীরের তাপমাত্রা বারবার বাড়ছে কি না এবং সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করা এবং সঠিক নিয়মে তাপমাত্রা মাপার অভ্যাস রাখা উচিত। নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক বা জ্বরের ওষুধ গ্রহণ না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, শুধু তাপমাত্রা নয়, ব্যক্তির সামগ্রিক শারীরিক অবস্থাও সুস্থতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।