দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা আরও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯২৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোববার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন মৃত্যুর সংখ্যা যোগ হয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২৭ জনে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবর মাসেই মারা গেছেন ১৭৪ জন। সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮৩১ জন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া খুলনায় ২৫৯ জন, চট্টগ্রামে ২৫৭ জন, বরিশালে ২২৯ জন, রাজশাহীতে ১৮৫ জন, ময়মনসিংহে ৯২ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৯ জনে। অন্যদিকে, চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৮৮ জন। নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
বিশেষ করে অক্টোবর মাসে ১৭৪ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুর ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন বিভাগেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি পরিষ্কার এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি, ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কারণ, এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। পাশাপাশি দিনের বেলায় মশার কামড় থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকা জরুরি।
জ্বর, শরীরব্যথা, মাথাব্যথা বা ডেঙ্গুর অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে নতুন মৃত্যু ও হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে। তাই ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সম্মিলিত প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন