ফুটবল, ক্রিকেট কিংবা দৌড়ের মতো খেলায় হঠাৎ ঊরুর পেছনে তীব্র ব্যথা অনুভব করে মাঠে পড়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ ধরনের পেশির আঘাতকে বলা হয় হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেইন বা হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি। দ্রুত দৌড়ানো, হঠাৎ গতি পরিবর্তন কিংবা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া খেলাধুলা করার সময় এ চোট হতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন না নিলে আবারও একই জায়গায় ইনজুরির ঝুঁকি থাকে।

হ্যামস্ট্রিং হলো ঊরুর পেছনের দিকে থাকা তিনটি প্রধান পেশির সমষ্টি। হাঁটু ভাঁজ করা, দৌড়ানো, লাফ দেওয়া এবং দ্রুত দিক পরিবর্তনের সময় পেশিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল ও অ্যাথলেটিকসের মতো খেলায় এসব পেশির ওপর বেশি চাপ পড়ে।

কেন হয় হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি

হঠাৎ দ্রুত দৌড় শুরু করা বা গতি বাড়ানো-কমিয়ে দেওয়ার সময় হ্যামস্ট্রিং পেশিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। পর্যাপ্ত ওয়ার্ম-আপ না করা, পেশির নমনীয়তা কম থাকা এবং ঊরুর সামনের পেশি শক্ত হয়ে থাকাও এ ধরনের ইনজুরির কারণ হতে পারে।

এ ছাড়া নিতম্বের পেশি দুর্বল হলে হ্যামস্ট্রিংয়ের ওপর চাপ বাড়তে পারে। আগে একই জায়গায় ইনজুরি হয়ে থাকলেও পুনরায় চোট পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই খেলাধুলার আগে শরীরকে প্রস্তুত করা এবং পেশির শক্তি ও নমনীয়তা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

ইনজুরির মাত্রা ও লক্ষণ

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিকে সাধারণত তিনটি মাত্রায় ভাগ করা হয়। প্রথম মাত্রায় পেশিতে হালকা টান লাগে। দ্বিতীয় মাত্রায় পেশির কিছু অংশ আংশিক ছিঁড়ে যায়। আর তৃতীয় বা গুরুতর মাত্রায় পেশি কিংবা টেন্ডন সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যেতে পারে।

ইনজুরির সময় ঊরুর পেছনে হঠাৎ তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে। অনেক সময় পেশিতে টান লাগার পাশাপাশি ‘পপ’ শব্দও শোনা যায়। গুরুতর অবস্থায় হাঁটতে সমস্যা, পায়ে দুর্বলতা এবং আক্রান্ত স্থানে কালশিটে দাগ দেখা দিতে পারে।

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির চিকিৎসা কী

এ ধরনের ইনজুরিতে শুরুতে ব্যথা ও ফোলা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। আক্রান্ত পেশিকে বিশ্রাম দেওয়া, ঠান্ডা সেঁক, কমপ্রেশন এবং পা কিছুটা উঁচু করে রাখা উপকারী হতে পারে। ব্যথা বেশি হলে হাঁটাচলার জন্য সাময়িকভাবে ক্রাচের প্রয়োজন হতে পারে।

গুরুতর ইনজুরির ক্ষেত্রে হাঁটু অতিরিক্ত প্রসারিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে চিকিৎসকের পরামর্শে নি-ব্রেস ব্যবহার করা হতে পারে। তবে প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে ব্রেস বা দীর্ঘ সময় বিশ্রামের প্রয়োজন হয় না। ইনজুরির মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা জরুরি।

ব্যথা কমে এলে ধীরে ধীরে ব্যায়ামের মাধ্যমে পেশির শক্তি ও নমনীয়তা ফিরিয়ে আনতে হয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী পুনর্বাসন কার্যক্রম চালানো গুরুত্বপূর্ণ।

কখন মাঠে ফিরবেন

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে খেলোয়াড়দের একটি সাধারণ ভুল হলো ব্যথা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে ফিরে যাওয়া। কিন্তু ব্যথা কমলেই পেশি পুরোপুরি সুস্থ হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

মাঠে ফেরার আগে ধাপে ধাপে হাঁটা, জগিং, দৌড়, স্প্রিন্ট ও লাফ দেওয়ার সক্ষমতা ফিরে পেতে হবে। প্রতিটি ধাপ ব্যথামুক্তভাবে সম্পন্ন করা জরুরি। পাশাপাশি আক্রান্ত পায়ের শক্তি ও স্বাভাবিক নড়াচড়াও আগের অবস্থার কাছাকাছি ফিরতে হবে।

তাই হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিকে অবহেলা না করে শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নেওয়া উচিত। বিশেষ করে তীব্র ব্যথা, হাঁটতে অসুবিধা বা পেশিতে দুর্বলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।