ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ভেতরে পার্কিং করে রাখা একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে জুমার নামাজের সময় কার্যালয় প্রায় জনশূন্য থাকার সুযোগে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে বাসটির ভেতরের অংশ, আসন ও ইঞ্জিনের কভার পুড়ে গেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও চা-দোকানিদের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ এবং ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাটি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ভেতরের পার্কিং এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাসটি রাখা ছিল। শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় কার্যালয়ে লোকজনের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। দুপুরে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অনেকেই জুমার নামাজ আদায়ে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় কার্যালয় প্রাঙ্গণের নিরিবিলি পরিবেশের সুযোগ নেয় দুর্বৃত্তরা।
একপর্যায়ে পার্কিংয়ে রাখা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা। আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসটি থেকে ঘন ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। আগুনের তাপে বাসের জানালার কাচ একের পর এক ফেটে যাওয়ার শব্দ শোনা যায়। এতে আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বাসটিতে আগুন জ্বলতে দেখে প্রথমে বিষয়টি নজরে আসে আশপাশের চা-দোকানি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আগুন যাতে আরও ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য তাঁরা নিজেরাই পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন। একই সঙ্গে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনও আগুন নেভানোর কাজে সহযোগিতা করেন। একপর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলে আগুন আশপাশের অন্য যানবাহন কিংবা কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা মো. তালহা বিন জসিম জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি পার্কিং করা বাসে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ইউনিট দুটি দুপুর ১টা ২২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে মাত্র ১০ মিনিটের প্রচেষ্টায় দুপুর ১টা ৩২ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিভিয়ে ফেলা হয়।
তিনি আরও জানান, আগুন আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। এতে পার্কিংয়ে থাকা অন্য যানবাহন এবং কার্যালয় প্রাঙ্গণের গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো অক্ষত রয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার ভেতরে পার্কিং করে রাখা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শুক্রবারের ছুটিতে কার্যালয় প্রায় ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে কীভাবে দুর্বৃত্তরা সেখানে আগুন দেওয়ার সুযোগ পেল, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বাসটিতে কারা আগুন দিয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন