আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের পর পর্তুগালের হয়ে আরেকটি ম্যাচ খেলতে চান না ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ককে সম্মান জানাতে একটি বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করলেও, সেই ম্যাচে মাঠে নামার প্রস্তাবে রাজি নন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম অবজার্ভারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রোনালদোর এই অনীহার কারণে সম্মাননা আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেন রোনালদো। তাঁর ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই বিদায়ী ম্যাচে অংশ নিতে না চাওয়ার খবর সামনে আসে। এর আগে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সাবেক অধিনায়কের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। একই সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অসামান্য অর্জন ও অবদান স্মরণে বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করার পরিকল্পনার কথাও জানায় সংস্থাটি।
তবে রোনালদো যদি আরেকটি ম্যাচ খেলতে রাজি না হন, তাহলে ফেডারেশনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। কারণ, মাঠে নেমে বিদায় জানানোর আয়োজনই ছিল সম্ভাব্য সম্মাননার অন্যতম ভাবনা। অবজার্ভারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপাতত জাতীয় দলে ফিরে শেষবারের মতো খেলার কোনো ইচ্ছা নেই পর্তুগিজ অধিনায়কের। তবে মাঠে না নেমে অন্য কোনোভাবে সম্মাননা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি।
রোনালদোর সঙ্গে পর্তুগালের কোচ জর্জে জেসুসের সম্পর্ক নিয়েও তৈরি হয়েছে আলোচনা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার কোচের সঙ্গে রোনালদোর একটি ফোনালাপ হওয়ার কথা ছিল। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েঙ্কার সেই আলোচনায় মধ্যস্থতা করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কথোপকথনটি আর হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে জেসুসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেও রোনালদো আগ্রহী নন বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
গত সেপ্টেম্বর থেকেই রোনালদো ও জেসুসের সম্পর্কের টানাপোড়েনের খবর সামনে আসে। খেলার সময় নিয়ে মতবিরোধের জেরে রোনালদো পর্তুগালের প্রশিক্ষণ শিবির ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও কোচ জেসুস এর আগে তাঁকে দলে ফেরানোর আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার কীভাবে শেষ করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রোনালদোরই থাকা উচিত।
জেসুসের পরিকল্পনা ছিল ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে পর্তুগালের আসন্ন নেশনস লিগের স্কোয়াডে রোনালদোকে রাখার। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার আগেই রোনালদো ফেডারেশন সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েঙ্কাকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফলে তাঁকে ঘিরে কোচের পরিকল্পনাও আর এগোয়নি।
বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও রোনালদোর অবদানকে যথাযথভাবে সম্মান জানাতে চায় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। তাদের বিবৃতিতে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার, পর্তুগিজ ফুটবলে তাঁর ভূমিকা এবং তরুণ প্রজন্মের ওপর তাঁর প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে সম্মাননা অনুষ্ঠানের তারিখ, স্থান কিংবা আয়োজনের ধরন এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর অর্জনের তালিকাও দীর্ঘ। পর্তুগালের জার্সিতে রেকর্ড ২৩৪টি ম্যাচ খেলে করেছেন ১৪৬ গোল। তাঁর নেতৃত্বে ২০১৬ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১৯ ও ২০২৫ সালে উয়েফা নেশনস লিগ জেতে পর্তুগাল। এসব সাফল্যের কারণে দেশটির ফুটবল ইতিহাসে তাঁর অবস্থান বিশেষ মর্যাদার।
এখন প্রশ্ন, মাঠে না ফিরেও কি পর্তুগালের বিদায়ী সম্মাননা গ্রহণ করবেন রোনালদো? নাকি আনুষ্ঠানিক বিদায় ছাড়াই শেষ হবে জাতীয় দলের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ পথচলা? এ বিষয়ে রোনালদো কিংবা ফেডারেশনের পক্ষ থেকে নতুন কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে সম্মাননা আয়োজনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন