সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুটা জয় দিয়েই করেছে বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতায় শুভ সূচনা করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা মোহাম্মদ ইব্রাহিম মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর করা একমাত্র গোলেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের দেখা পেতে চেষ্টা করেছে। তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি কেউই। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে খেলা। প্রথমার্ধে বাংলাদেশও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করেছে, কিন্তু গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যেতে হয় দুই দলকে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বাংলাদেশ দলের কোচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় ফাহমিদুলকে। এরপর ম্যাচের প্রায় ৬৪ মিনিটে আরও দুটি পরিবর্তন আনেন কোচ ডুলি। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া এবং স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতে থাকা বিশ্বনাথকে তুলে নিয়ে মাঠে পাঠান মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও সোহেল রানাকে।

কোচের এই পরিবর্তন কাজে আসতে খুব বেশি সময় লাগেনি। মাঠে নামার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই গোলের দেখা পান ইব্রাহিম। জায়ান আহমেদের বাড়ানো ক্রস ভুটানের বক্সে পৌঁছালে সামিত সোমের হেড থেকে বলটি ঘুরে আসে তাঁর সামনে। এরপর দারুণ দক্ষতায় ভলিতে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। তাঁর গোলেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

জাতীয় দলের জার্সিতে ইব্রাহিমের এই গোলটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর আগে প্রায় দুই মাস আগে ফর্টিজের হয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। গোল করে দলকে পরবর্তী পর্বে তুলতে অবদান রেখেছিলেন এই ফুটবলার। একসময় জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য থাকলেও পরবর্তী সময়ে দলে তাঁর আসা-যাওয়া চলেছে। এবার সাফের মঞ্চে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন তিনি।

গোল পাওয়ার পর বাংলাদেশ কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলতে শুরু করে। এক গোলের ব্যবধান ধরে রাখতে দলের রক্ষণভাগকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন কোচ ডুলি। ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটের জন্য ডিফেন্ডার রহমত মিয়াকেও মাঠে নামানো হয়। মূলত শেষ সময়ের চাপ সামলানো এবং নিজেদের লিড ধরে রাখাই ছিল এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করেছে ভুটান। তবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারেনি তারা। বাংলাদেশও ব্যবধান বাড়ানোর জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে দলটি।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ইতিবাচক সূচনা হলো বাংলাদেশের। বিশেষ করে বদলি হিসেবে নেমে ইব্রাহিমের দ্রুত গোল দলের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে। প্রথম ম্যাচের এই জয় পরবর্তী ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।