আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি পর্তুগালের জাতীয় দলের কোচ জর্জ হেসুসকে জানাননি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। বরং নিজের এই বড় সিদ্ধান্তের কথা সবার আগে জানিয়েছেন পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েঙ্কাকে। পর্তুগালের সংবাদমাধ্যম ‘আ বোলা’র এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় দল থেকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোচ জর্জ হেসুসের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করেননি আল নাসরের এই মহাতারকা। এমনকি নিজের সিদ্ধান্তের কথা কোচকে জানানোর প্রয়োজনও মনে করেননি তিনি। বিষয়টি পর্তুগিজ ফুটবলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোনালদোর এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোচ জর্জ হেসুসের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের সম্পর্কের অবনতিকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় এবং শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেন পর্তুগিজ অধিনায়ক।
‘আ বোলা’র দাবি, আসন্ন নেশনস লিগের ম্যাচগুলোর জন্য রোনালদোকে দলে রাখার পরিকল্পনা ছিল কোচ জর্জ হেসুসের। বিষয়টি রোনালদোও আগে থেকেই জানতেন। তবে কোচের অধীনে আর জাতীয় দলের হয়ে খেলতে আগ্রহী না হওয়ায় স্কোয়াড ঘোষণার ঠিক আগের দিন অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। ফলে তাঁকে দলে রাখার সুযোগও কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বরের একটি ঘটনাও এই সম্পর্কের অবনতির ইঙ্গিত দিয়েছিল। সেদিন সকালে পর্তুগিজ জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্প ছাড়ার আগে রোনালদো, কোচ জর্জ হেসুস এবং এফপিএফ সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েঙ্কা একসঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকটিই ছিল কোচ ও রোনালদোর মধ্যে শেষ কথোপকথন। এরপর তাঁদের মধ্যে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
রোনালদোর অবসরের সিদ্ধান্ত যেভাবে সামনে এসেছে, তাতে বিস্মিত হয়েছেন কোচ জর্জ হেসুসও। কোচ কিংবা ফেডারেশন সভাপতি কেউই চাননি বিষয়টির সমাপ্তি এভাবে হোক। তবে জাতীয় দলের হয়ে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বরং মূল একাদশের সদস্য হিসেবেই নিজের অধ্যায় শেষ করতে চেয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার।
এই সিদ্ধান্তের ফলে পর্তুগালের জার্সিতে এক হাজার গোল করার স্বপ্নও অপূর্ণ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও ক্লাব ফুটবলে নিজের ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে রোনালদোর পরিকল্পনা আলাদা। জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও ফুটবল থেকে এখনই অবসর নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেই তাঁর।
একসময় ক্লাব ফুটবলে আল নাসরে একসঙ্গে কাজ করেছেন রোনালদো ও জর্জ হেসুস। কিন্তু সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক বিরতিতে তাঁদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ না পাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
পরে সতীর্থ ও পর্তুগিজ সমর্থকদের কাছে নিজের আচরণের জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন রোনালদো। তবে সেই ঘটনার পর পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন তাঁকে ৩০ দিনের শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা দেয়। সব বিতর্ক পেছনে ফেলে জাতীয় দলে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
এদিকে ৬ নভেম্বর পর্তুগালের আসন্ন ম্যাচগুলোর জন্য প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণার কথা ছিল জর্জ হেসুসের। তার ঠিক আগের দিন রোনালদোর অবসরের ঘোষণা নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। কোচের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পর্তুগিজ ফুটবলে রোনালদোর বিদায়পর্ব আরও আলোচিত হয়ে উঠেছে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন