যুব এশিয়া কাপের শুরুটা মোটেও ভালো হলো না বাংলাদেশের। ব্যাটসম্যানদের চরম ব্যর্থতায় আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কাছে ১১৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ওমানের আল আমেরাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বোলাররা শুরুতে লড়াই করে আফগানিস্তানকে ২৩১ রানে আটকে রাখলেও ব্যাটিংয়ে নেমে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। ২৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১৮ রানেই গুটিয়ে যায় দলটি।
ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় শুরু হয় ইনিংসের প্রথম দিক থেকেই। আফগান বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই সাজঘরে ফেরেন পাঁচ ব্যাটার। এরপর ১১তম ওভারে রকিবুল হোসেনের বিদায়ের পর মাত্র ৪১ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ে পড়ে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।
এমন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন ওপেনার এসকে জারিফ সিয়াম ও রবিউল হাসান অনিক। সপ্তম উইকেটে দুজন মিলে ৫৫ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তাদের এই জুটিতে বাংলাদেশের সমর্থকদের মধ্যে সামান্য আশার সঞ্চার হলেও শেষ পর্যন্ত তা জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেনি।
সিয়াম ৫৮ বলে ৪১ রান করে আউট হন। অন্যদিকে অনিকের ব্যাট থেকে আসে ৪৭ বলে ৩৩ রান। দুজনের বিদায়ের পর আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ দিকে পেস অলরাউন্ডার রুবাই ইসলাম রিজন ১৪ বলে ২১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেও পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১১৮ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন আমির হামজা, নুর আলি নিয়াজাই ও সামিউল্লাহ মুবারেজ। তিনজনই সমান ৩টি করে উইকেট শিকার করেন। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। শুরুতে উইকেট হারালেও শাহ ফয়সাল রাহিমির দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায় দলটি। পঞ্চম উইকেটে তাহির সারওয়ারিকে সঙ্গে নিয়ে ৬১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন রাহিমি। তাহির ৩৭ রান করে বিদায় নিলেও অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন রাহিমি।
দলের ইনিংসে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন শাহ ফয়সাল রাহিমি। ৯৭ বল মোকাবিলা করে ৮৩ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলেন তিনি। তার ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৩১ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। শেষ দিকে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরাও কার্যকর অবদান রাখেন।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে অভিষেকেই নজর কাড়েন পেসার তাফিউল আলম তামিম। আফগানিস্তানের ৪টি উইকেট তুলে নিয়ে দলের সেরা বোলার ছিলেন তিনি। এছাড়া রবিউল হাসান অনিক ২টি এবং রুবাই ইসলাম রিজন ও শেখ আতিকুর রহমান একটি করে উইকেট শিকার করেন।
তবে বোলারদের এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হেরে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের সামনে। পরবর্তী ম্যাচে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আগামী শনিবার একই ভেন্যুতে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে ফরিদ হাসানের দল।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন