ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণি। পর্দায় তাঁর পরিচিতি, ব্যক্তিত্ব এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। তবে আজকের জনপ্রিয় পরীমণি একদিনে তৈরি হননি। শামসুন্নাহার স্মৃতি থেকে পরীমণি হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে শৈশবের নানা অভিজ্ঞতা, পরিবার হারানোর বেদনা, নতুন করে স্বপ্ন দেখা এবং বিনোদন জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার দীর্ঘ পথচলা।

পরীমণির প্রকৃত নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। ১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছোটবেলাতেই মাকে হারান এই অভিনেত্রী। এরপর পিরোজপুরে নানা শামসুল হক গাজীর কাছে বড় হন। শৈশবের কঠিন সময় পেরিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিও আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আলাদা টান ছিল তাঁর।

পড়াশোনা শেষ করে ২০১১ সালের দিকে বিনোদন জগতে কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় আসেন পরীমণি। নতুন শহরে নিজের জায়গা তৈরি করাই ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য। অভিনয়ে আসার আগে বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে (বাফা) নাচ শেখেন। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশ নেন। এভাবেই ধীরে ধীরে বিনোদন অঙ্গনের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে শুরু করেন তিনি।

নাচের পাশাপাশি মডেলিংয়ের মাধ্যমেও কাজের সুযোগ পান পরীমণি। এরপর ছোটপর্দায় অভিনয় শুরু করেন। ‘সেকেন্ড ইনিংস’, ‘এক্সক্লুসিভ’ ও ‘এক্সট্রা ব্যাচেলর’সহ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেন তিনি। এসব কাজের মধ্য দিয়ে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি পরিচিতিও বাড়তে থাকে। পরে ‘নারী ও নবনীতা তোমার জন্য’ নাটকেও অভিনয়ের সুযোগ পান।

তবে বড় পর্দায় কাজ করার স্বপ্নই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে ২০১৩ সালে ‘রানা প্লাজা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। ছবিটি নিয়ে শুরু থেকেই আলোচনা তৈরি হলেও বিভিন্ন জটিলতায় এটি মুক্তি পায়নি। তবে এই চলচ্চিত্রে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে তাঁর পরিচিতি বাড়তে শুরু করে।

এরপর শাহ আলম মণ্ডল পরিচালিত ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন পরীমণি। জায়েদ খান ও আনিসুর রহমান মিলনের সঙ্গে অভিনীত ছবিটি ২০১৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায়। এটিই ছিল তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র। ছবিটি মুক্তির আগেই প্রায় দুই ডজন চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবর তাঁকে আলোচনায় নিয়ে আসে।

প্রথম চলচ্চিত্র মুক্তির পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। একের পর এক সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান। ‘আরও ভালোবাসব তোমায়’, ‘মহুয়া সুন্দরী’, ‘রক্ত’, ‘অন্তর জ্বালা’ ও ‘স্বপ্নজাল’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে ‘স্বপ্নজাল’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয়শিল্পী হিসেবে নতুনভাবে আলোচনায় আসেন তিনি।

কর্মজীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন পরীমণি। একাধিক সম্পর্ক, বিয়ে, বিচ্ছেদ এবং তারকাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ নিয়ে নানা সময়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব আলোচনার বাইরেও তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের অগ্রযাত্রা দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

সব মিলিয়ে শামসুন্নাহার স্মৃতি থেকে পরীমণি হয়ে ওঠার গল্পটি কেবল একজন অভিনেত্রীর নাম পরিবর্তনের ইতিহাস নয়। এটি স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় আসা, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কাজ শুরু করা এবং ধীরে ধীরে বড় পর্দায় পরিচিতি অর্জনের গল্প। নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেও ঢালিউডে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন এই অভিনেত্রী।