আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অবসরের ঘোষণায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছে ফুটবলবিশ্ব। সতীর্থ, প্রতিপক্ষ থেকে শুরু করে অসংখ্য ভক্ত নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করছেন পর্তুগিজ মহাতারকার বিদায়ে। এবার সেই তালিকায় যোগ দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়র। দীর্ঘ কোনো বক্তব্য কিংবা আবেগঘন বার্তা নয়, মাত্র একটি শব্দেই রোনালদোর প্রতি নিজের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেইমারের লেখা সেই একটি শব্দই এখন ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায়।
গত ৫ নভেম্বর ৪১ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এর মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালে পর্তুগালের জাতীয় দলের হয়ে শুরু হওয়া তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটে। প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশের জার্সিতে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন এই ফুটবল তারকা। তাঁর বিদায়ের ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা ও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন ফুটবল অঙ্গনের পরিচিত মুখেরা।
রোনালদোর বিদায়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্তুগিজ ভাষায় ‘Lenda’ লিখেছেন নেইমার। বাংলায় শব্দটির অর্থ ‘কিংবদন্তি’। খুব সংক্ষিপ্ত এই বার্তার মধ্য দিয়েই রোনালদোর প্রতি নিজের মুগ্ধতা ও সম্মান প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। নেইমারের এই প্রতিক্রিয়া ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, একসময় মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা দুই তারকার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক ছিল বরাবরই।
জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর অর্জনের তালিকাও বেশ সমৃদ্ধ। পর্তুগালের জার্সিতে ২৩৪টি ম্যাচ খেলে করেছেন ১৪৬ গোল। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড দুটিই তাঁর দখলে। শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, দেশের হয়েও সাফল্যের অনন্য নজির গড়েছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে পর্তুগাল তিনটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছে, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
২০১৬ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতে পর্তুগাল। এরপর ২০১৯ সালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লিগের প্রথম আসরের শিরোপা ঘরে তোলে দলটি। ২০২৫ সালেও একই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতে নিজেদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে পর্তুগিজরা। এসব অর্জনে রোনালদোর নেতৃত্ব ও মাঠের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, ক্লাব ফুটবলে নেইমার ও রোনালদো খেলেছেন ভিন্ন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরে। বার্সেলোনার হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন নেইমার, আর রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দীর্ঘদিন নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন রোনালদো। স্প্যানিশ ফুটবলে দুই তারকার দল ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। এল ক্লাসিকোর উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে তাঁদের মুখোমুখি হওয়া ছিল দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। তবে মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কখনোই একে অপরের প্রতি সম্মানকে ছাপিয়ে যায়নি।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের অভিজ্ঞতা নেইমারের নিজেরও রয়েছে। ব্রাজিলের হয়ে ১৩০টি ম্যাচ খেলে ৮০ গোল করেছেন তিনি। জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ করেছেন এই ফরোয়ার্ড। ফলে রোনালদোর বিদায়ের আবেগ ও অনুভূতি তাঁর কাছে অন্যদের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
সব মিলিয়ে রোনালদোর বিদায় বিশ্ব ফুটবলের একটি বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি। আর সেই অধ্যায়ের নায়কের প্রতি নেইমারের ছোট্ট বার্তা যেন অনেক কথাই বলে দিয়েছে। দীর্ঘ কোনো বক্তব্যের প্রয়োজন হয়নি, একটি শব্দেই জানিয়ে দিয়েছেন নিজের শ্রদ্ধা—‘কিংবদন্তি’।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন