জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে থাকলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ সংকটে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর মতে, এনসিপিকে রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে হলে জামায়াতের সঙ্গে জোট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দুই দলের আদর্শিক অবস্থানের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই মোড়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন রাশেদ খাঁন। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এনসিপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের দাবি, নির্বাচনের আগে সংসদীয় রাজনীতিতে জায়গা করে নেওয়ার কৌশল হিসেবে নতুন দল এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছিল। তবে এই সিদ্ধান্ত দলের একাংশের তরুণ নেতৃত্বের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ কারণেই চিকিৎসক তাসনিম জারার মতো নেতারা দল ছেড়েছিলেন।
সম্প্রতি সামান্তা শারমিনের এনসিপি ছাড়ার প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট অব্যাহত থাকলে দলের আরও গুরুত্বপূর্ণ নেতারা সরে যেতে পারেন। তাঁর আশঙ্কা, জোটের কারণে তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকলে এনসিপির সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।
জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, দলটি প্রকাশ্যে ইসলামের কথা বললেও তাদের কয়েকজন নেতাকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সাতক্ষীরার গাজী নজরুলের ঘটনা এবং কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মুফতি আমির হামজাকে ঘিরে একটি অডিও রেকর্ডের কথা উল্লেখ করেন। রাশেদ খাঁনের দাবি, অডিওটি তিনি যাচাই করে দেখেছেন। এসব প্রসঙ্গ তুলে তিনি নারীদের নিরাপত্তা নিয়েও জামায়াতের সমালোচনা করেন।
সব মিলিয়ে এনসিপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন রাশেদ খাঁন। তাঁর বক্তব্যে জোটের ভবিষ্যৎ, দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের অবস্থান এবং রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্ন সামনে এসেছে। তবে জামায়াতের বিরুদ্ধে তাঁর তোলা অভিযোগ এবং অডিও রেকর্ডের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়নি।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন