অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার বিচারের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) ছাত্রীরা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তাঁরা। এতে আজিমপুর এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা কলেজের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন। তাঁদের দাবি, অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছাকে পদত্যাগ করতে হবে এবং আগের দিন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জামিল হোসেন জানান, প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্রী কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। তবে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পেছনে রয়েছে চার দফা দাবি। প্রথমত, অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছাকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে জড়িত পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি তাঁদের শোকজ করার দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তৃতীয়ত, অধ্যক্ষ লিখিত পদত্যাগপত্র জমা না দেওয়া পর্যন্ত কলেজের সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার দাবি রয়েছে। চতুর্থত, শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণকে সমর্থন দেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে একপর্যায়ে তাঁকে কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা। প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ গিয়ে অধ্যক্ষকে সেখান থেকে বের করে আনে। এ সময় আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। এতে কয়েকজন ছাত্রী আহত হন বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদেই শুক্রবার আবারও আন্দোলনে নামেন তাঁরা। সকালে সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের পরীক্ষা থাকায় কর্মসূচি কিছুটা শিথিল রাখা হয়েছিল। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পুনরায় সড়কে অবস্থান নেন ছাত্রীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পূজার ছুটির আগে কলেজ অডিটোরিয়ামে স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের বিদায় অনুষ্ঠান নির্ধারিত রাত ১২টার পরিবর্তে ভোর ৫টা পর্যন্ত চলে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অধ্যক্ষ অনুষ্ঠানের দুই সমন্বয়কারীর হলের আসন বাতিল করেন। পরে ক্ষমা চাইতে গেলে তাঁদের কাছে এক রাতের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন ছাত্রীরা। এমনকি একজন ছাত্রী ক্ষমা চাইতে গিয়ে অধ্যক্ষের পা ধরলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি তাঁদের।

তবে অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছা এসব অভিযোগের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অনুষ্ঠান রাত ১২টা পর্যন্ত করার অনুমতি থাকলেও শিক্ষার্থীরা ভোর ৫টা পর্যন্ত চালিয়েছেন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রথমে দুই সমন্বয়কারীর আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁরা ক্ষমা চাইলে বিদ্যুৎ অপচয়ের বিল পরিশোধ করতে বলা হয়। সাদা কাগজে পদত্যাগের চাপের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এভাবে পদত্যাগ করতে তিনি রাজি নন। অন্যদিকে কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবা ইয়াছমিন জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী একজন বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা সাদা কাগজে পদত্যাগ করতে পারেন না। পরিস্থিতির বিষয়ে শিক্ষা সচিব ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি

1. অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার অবিলম্বে পদত্যাগ।

2. শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে জড়িত পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও শোকজ।

3. অধ্যক্ষের লিখিত পদত্যাগপত্র জমা না দেওয়া পর্যন্ত কলেজের সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা।

4. শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণকে সমর্থন দেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা।