শীতের আগমনে রাজধানীর বাজারে বাড়তে শুরু করেছে মৌসুমী সবজির সরবরাহ। এর প্রভাবে কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে সবজির দাম। বেশিরভাগ শীতকালীন সবজি এখন কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে মাছ, মুরগি, ডিম ও মাংসের বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে সবজি কিনতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও আমিষের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে শীতকালীন সবজির উপস্থিতি বাড়ছে। সরবরাহ বাড়ায় দামেও তার প্রভাব পড়েছে। এক মাস আগের তুলনায় অনেক সবজির দাম কমেছে। তবে টমেটো ও গাজরের মতো কয়েকটি পণ্য এখনো কেজিপ্রতি ১০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে কাঁচামরিচের দাম কমে কেজিপ্রতি ৮০ টাকায় নেমেছে।
তবে সবজির দাম আরও কমার প্রত্যাশা করছেন ক্রেতারা। তাঁদের মতে, শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে পুরোপুরি আসেনি। বিক্রেতারা অবশ্য বলছেন, উৎপাদন এলাকা থেকে বাজার পর্যন্ত পরিবহন খরচ এবং কয়েক দফা হাতবদলের কারণে দাম কমানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এসব খরচের প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন নেই। খামারে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি মুরগির দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন প্রতি কেজি দেশি মুরগি কিনতে গুনতে হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৬৮০ টাকা।
ডিমের দামেও মিলছে না স্বস্তি। বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। সাদা ডিমের ডজনের দাম ১৩৫ টাকা। মাংসের বাজারেও আগের দাম বহাল রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস কিনতে ক্রেতাদের খরচ হচ্ছে ৭৬০ টাকা। আর খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২৫০ টাকায়।
এদিকে ভরা মৌসুমেও রাজধানীর মাছের বাজারে দাম চড়া। নদী, উপকূল ও খামারের বিভিন্ন ধরনের মাছের দামই বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। বিক্রেতাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও নদীতে প্রত্যাশা অনুযায়ী মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়েনি। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয় ও ছুটির দিনের প্রভাব যুক্ত হয়ে দাম আরও বেড়েছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, বাড়তি দামের কারণে মাছের বিক্রিও কমেছে; আগের তুলনায় বিক্রিবাট্টা নেমে এসেছে প্রায় তিন ভাগের এক ভাগে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন