হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ আগে থেকে চিনতে পারলে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব। শুধু হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরই হার্ট অ্যাটাক হয়, এমন ধারণা ঠিক নয়। আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মানুষেরও হঠাৎ এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘামসহ প্রাথমিক সংকেতগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে প্রাণহানির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

হার্টে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে হৃদপেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। এ অবস্থায় হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এর সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো বুকের মাঝখানে চাপ, ব্যথা বা ভারী অনুভূতি। অনেকের ক্ষেত্রে মনে হয় বুকের ওপর কেউ ভারী কিছু চেপে রেখেছে। এই অস্বস্তি কয়েক মিনিট স্থায়ী হতে পারে, আবার কমে গিয়ে পুনরায় দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা সব সময় বুকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ব্যথা এক বা দুই হাত, কাঁধ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে বুকের অস্বস্তির সঙ্গে শরীরের এসব অংশে ব্যথা অনুভূত হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। বুকব্যথা ছাড়াও কারও কারও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ ঠান্ডা ঘাম হওয়া, মাথা ঘোরা কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করাও হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য লক্ষণ। বিশেষ করে বুকের অস্বস্তির সঙ্গে অতিরিক্ত ঘাম বা মাথা ঘোরা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব, বমি কিংবা পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তিও হতে পারে। অনেকে এসব সমস্যাকে গ্যাস বা বদহজম ভেবে ভুল করেন। তবে অন্যান্য লক্ষণের সঙ্গে এগুলো দেখা দিলে অবহেলা করা বিপজ্জনক।

অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা শরীর দুর্বল লাগাও কখনো কখনো হার্ট অ্যাটাকের পূর্বসংকেত হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বুকের অস্বস্তির পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা যেতে পারে। তবে নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে। সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায় না। এমনকি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে স্পষ্ট বুকব্যথা ছাড়াও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, যাকে সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক বলা হয়।

হার্ট অ্যাটাকের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া। বুকের মাঝখানে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা ব্যথা হাত, ঘাড় ও চোয়ালে ছড়িয়ে পড়লে এক মুহূর্তও অবহেলা করা উচিত নয়। বাংলাদেশে জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। রোগীকে নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যেতে দেওয়া উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে ওষুধ খেয়ে সময় নষ্ট করাও ঠিক নয়।

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান পরিহার, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত। মনে রাখতে হবে, হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও চিকিৎসা জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।