চিত্রনায়িকা মৌসুমীর ৫৩তম জন্মদিন আজ ৩ নভেম্বর। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দেওয়া এই অভিনেত্রী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। কন্যার পড়াশোনা ও অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে রয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেলেও এখনই দেশে ফেরা হচ্ছে না তাঁর। ফলে জন্মদিনে ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে একটাই প্রশ্ন, কবে আবার বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নিয়মিত দেখা যাবে এই অভিনেত্রীকে?

১৯৭৩ সালের ৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন মৌসুমী। বয়স নিয়ে বরাবরই বেশ সহজ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর। অভিনেত্রীর মতে, বয়স কেবল একটি সংখ্যা। মনের চঞ্চলতা ও প্রাণবন্ত ভাব ধরে রাখতে পারলেই যথেষ্ট। জন্মদিন ও বয়স প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মজা করে তিনি বলেছিলেন, ‘দেশের একমাত্র নায়িকা, যার বয়স সবাই জানে, সেটা হলো মৌসুমী।’

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বাংলা চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন মৌসুমী। ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। প্রথম সিনেমাতেই সহশিল্পী হিসেবে পেয়েছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহকে। মুক্তির পর সিনেমাটি ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পায়। রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান দুজনই। পরবর্তী সময়ে ‘অন্তরে অন্তরে’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় তাঁদের জুটি দর্শকের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

সালমান শাহর পাশাপাশি অভিনেতা ওমর সানীর সঙ্গেও মৌসুমীর জুটি ছিল বেশ আলোচিত। ‘দোলা’সহ বিভিন্ন সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে বিয়ের মাধ্যমে বাস্তব জীবনেও একে অপরের সঙ্গী হন তাঁরা। তাঁদের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান, ছেলে ফারদীন এহসান স্বাধীন ও মেয়ে ফাইজা আবিহা।

অভিনয়ের পাশাপাশি গান, চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন মৌসুমী। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সফল সিনেমায় অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীর সম্মাননা। সমসাময়িক অনেক অভিনেত্রী নিয়মিত অভিনয় থেকে সরে গেলেও বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।

তবে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর থেকেই দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে তাঁর উপস্থিতি কমেছে। সেখানে মেয়ের পড়াশোনার দেখভালের পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ও পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন মৌসুমী। এতে দেশে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে আগের জটিলতা কমলেও মায়ের শারীরিক অবস্থার কারণে দেশে ফিরতে পারছেন না।

অভিনেত্রীর মা বর্তমানে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। কখনো নিজে হাঁটাচলা করতে পারলেও পরদিনই অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকেন। পাশাপাশি স্মৃতিভ্রংশের সমস্যাও রয়েছে তাঁর। মায়ের পাশে থাকতে পারাটাকে জীবনের বড় প্রাপ্তি মনে করেন মৌসুমী। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘একটা সময় তো আম্মাকে সময় দিতে পারিনি, এখন দিচ্ছি।’ মাকে ধীরে ধীরে শিশুর মতো হয়ে যেতে দেখছেন তিনি। তাই জীবনের এই সময়ে মায়ের যত্ন নেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি মৌসুমী। সেখানে ‘কন্ট্যাক্ট ম্যারেজ’ নামের একটি টেলিফিল্মের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। পরে সেটি বাংলাদেশে চলচ্চিত্র হিসেবে মুক্তি পায়। তবে নতুন কোনো সিনেমায় অভিনয় কিংবা নিয়মিত কাজে ফেরার বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেননি এই অভিনেত্রী।

বর্তমানে মৌসুমীর মেয়ে ফাইজা তাঁর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। নিউইয়র্কে কসমেটোলজি নিয়ে পড়াশোনা করছেন তিনি। ছেলে ফারদীন থাকেন দুবাইয়ে এবং একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, স্বামী ওমর সানী বাংলাদেশে থেকে পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করছেন। দূরত্ব থাকলেও ভিডিওকলে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন পরিবারের সদস্যরা।

অভিনয়জীবনের বাইরেও মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন রয়েছে মৌসুমীর। নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত কল্যাণ ফাউন্ডেশনকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চান তিনি। পাশাপাশি একটি বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠার ইচ্ছাও রয়েছে তাঁর। নিজে স্বপ্নটি বাস্তবায়ন করতে না পারলেও ভবিষ্যতে কেউ না কেউ এগিয়ে আসবেন বলে বিশ্বাস করেন অভিনেত্রী। জন্মদিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, পারিবারিক দায়িত্ব সামলে আবারও দেশের চলচ্চিত্রে ফিরবেন তাঁদের প্রিয় মৌসুমী।