গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে ভিটামিন সি-এর ঘাটতি থাকলে জন্মের পর শিশুর মেজাজ ও আচরণে এর প্রভাব পড়তে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় তুলনামূলক কম ভিটামিন সি গ্রহণকারী মায়েদের ছয় মাস বয়সী সন্তানদের মধ্যে খিটখিটে মেজাজ, অস্থিরতা এবং সহজে কান্নার প্রবণতা বেশি দেখা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টি শিশুর শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি মস্তিষ্ক ও মানসিক বিকাশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

‘ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটিতে ৩০০ জনের বেশি অন্তঃসত্ত্বা নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকরা। গর্ভাবস্থায় খাবার এবং সম্পূরক খাবারের মাধ্যমে এসব নারী কতটুকু ভিটামিন সি গ্রহণ করেছেন, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি তাদের মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও অবসাদের মাত্রাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।

গবেষণার অংশ হিসেবে শিশুদের বয়স ছয় মাস হওয়ার পর তাদের মা-বাবার কাছ থেকে আচরণ ও মেজাজ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে দেখা যায়, যেসব মা গর্ভাবস্থায় তুলনামূলক কম ভিটামিন সি গ্রহণ করেছেন, তাদের সন্তানদের মধ্যে নেতিবাচক আবেগ প্রকাশের প্রবণতা বেশি ছিল। এসব শিশুর মধ্যে সহজে বিরক্ত হওয়া, অস্থিরতা এবং সামান্য অস্বস্তিতেই কান্নাকাটির মতো আচরণ লক্ষ্য করা গেছে।

গবেষকদের পর্যবেক্ষণে মায়ের মানসিক চাপের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও অবসাদ মায়ের খাদ্যাভ্যাস এবং পুষ্টি গ্রহণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর সঙ্গে গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ এবং পরবর্তী সময়ে আবেগ প্রকাশ ও নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

ভিটামিন সি শরীরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। গবেষকদের ধারণা, গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত ভিটামিন সি গ্রহণ মায়ের শরীরে মানসিক চাপের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে গর্ভস্থ শিশুর স্বাভাবিক বিকাশেও প্রয়োজনীয় পুষ্টির ভূমিকা রয়েছে।

তবে গবেষণার ফলাফল নিয়ে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। এতে গর্ভাবস্থায় ভিটামিন সি গ্রহণের পরিমাণ এবং শিশুর আচরণের মধ্যে সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কিন্তু ভিটামিন সি-এর ঘাটতিই যে সরাসরি শিশুর খিটখিটে মেজাজের কারণ, তা গবেষণায় প্রমাণিত হয়নি। শিশুর আচরণ ও মেজাজের পেছনে জিনগত বৈশিষ্ট্য, পারিবারিক পরিবেশ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়ও ভূমিকা রাখতে পারে।

তাই গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল ও শাকসবজি রাখা যেতে পারে। পেয়ারা, আমলকী, কমলা ও লেবুর মতো খাবার ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস। তবে অতিরিক্ত সম্পূরক খাবার গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, গর্ভাবস্থায় মায়ের সুষম খাদ্যাভ্যাস, মানসিক সুস্থতা এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ সন্তানের সুস্থ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সন্তান জন্মের আগেই মায়ের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির যত্ন নেওয়া জরুরি।