সম্প্রতি মারা যাওয়া এক মায়ের নবজাতক সন্তানের জন্য ‘দুধ-মা’ খোঁজার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। জন্মের পর থেকে প্রথম দুই বছর পর্যন্ত শিশুর জন্য মায়ের দুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে প্রথম ছয় মাস এটিই শিশুর একমাত্র পুষ্টির উৎস। কোনো কারণে শিশু নিজের মায়ের দুধ না পেলে বাজারের ফর্মুলা দুধের চেয়ে অন্য মায়ের বুকের দুধ অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ। বিশেষ করে অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য মাতৃদুগ্ধ অপরিহার্য।
সবাই কি অন্যের সন্তানকে দুধ দিতে পারেন?
এ বিষয়ে স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. আনিকা তাবাস্সুম জানান, অন্যের সন্তানকে বুকের দুধ দেওয়ার উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে মহৎ। তবে স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার কারণে এক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়। সর্বপ্রথম নিশ্চিত করতে হবে যে ওই মায়ের নিজের সন্তান যেন পর্যাপ্ত দুধ থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়।
সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি
অন্যের সন্তানকে দুধ দেওয়ার আগে মায়ের কিছু ভাইরাসের সংক্রমণ আছে কি না, তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি:
এইচআইভি (HIV), হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, হিউম্যান টি-সেল লিম্ফোট্রপিক ভাইরাস এবং সিফিলিস। এগুলোর অনেক সময় কোনো উপসর্গ থাকে না, তাই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়।
হারপেস সিমপ্লেক্স ভাইরাস (স্তনে ক্ষত থাকলে সংক্রমণ ছড়াতে পারে, তবে সুস্থ স্তন থেকে দুধ দেওয়া যায়)।
ব্রুসেলা সংক্রমণ (জ্বর ও ব্যথার মতো উপসর্গ থাকে), মাঙ্কি ভাইরাস ও ইবোলা ভাইরাস সংক্রমণ।
অন্যান্য স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি
স্তন্যদানকারী মা যদি ধূমপান করেন বা তামাকজাত পণ্য ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন করেন, তবে তা শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
কোনো চিকিৎসার জন্য মাকে রেডিওঅ্যাকটিভ পদার্থ গ্রহণ করতে হলেও তা শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা
অন্যের সন্তানকে দুধ দেওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সংক্রমণ এড়াতে চিকিৎসক নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষা করতে দেবেন। মায়ের কোনো ছোঁয়াচে রোগ থাকলে বা তিনি নিয়মিত কোনো ওষুধ (এমনকি সাপ্লিমেন্ট বা হারবাল ওষুধও) সেবন করলে তা চিকিৎসককে জানাতে হবে।
দুধ সংগ্রহ ও সংরক্ষণে সতর্কতা
আমাদের দেশে মাতৃদুগ্ধ ব্যাংকের সুবিধা না থাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে সর্বোচ্চ খেয়াল রাখতে হবে।
প্রতিবার দুধ সংগ্রহের আগে হাত ও সরঞ্জাম ভালোভাবে পরিষ্কার করে পরিষ্কার পাত্রে দুধ রাখতে হবে।
দুধ সংগ্রহের পর কক্ষ তাপমাত্রায় (২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম) চার ঘণ্টা পর্যন্ত ভালো থাকে। বোতল থেকে খাওয়ালে দুই ঘণ্টার মধ্যে শেষ করতে হবে।
ফ্রিজের সাধারণ চেম্বারে (চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বা কম) চার দিন পর্যন্ত এবং ডিপ ফ্রিজে (মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা কম) রাখলে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত দুধ ভালো থাকে।
মায়ের দুধ চুলায় বা ওভেনে কখনোই গরম করা উচিত নয়। ঈষদুষ্ণ পানির পাত্রে দুধের বোতল রেখে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনতে হবে। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনার পর দুই ঘণ্টা পর্যন্ত তা শিশুকে খাওয়ানো যায়।
অপরিণত নবজাতকের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের দেওয়া বিশেষ নির্দেশনাগুলো অবশ্যই মেনে চলা উচিত।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন