রান্নাঘরের প্রতিদিনের প্রস্তুতিতে পেঁয়াজ কাটা একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু পেঁয়াজ কাটতে গেলেই কিছুক্ষণের মধ্যে চোখে শুরু হয় জ্বালাপোড়া, আর গড়িয়ে পড়তে থাকে পানি। অনেকেই নিয়মিত এই বিরক্তিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, পেঁয়াজ কাটলেই কেন এমনটা হয়? এর পেছনে মূলত পেঁয়াজের ভেতরে থাকা সালফারযুক্ত উপাদান এবং একটি বিশেষ রাসায়নিক বিক্রিয়া দায়ী।

যে কারণে চোখে পানি আসে

পেঁয়াজ কাটার সময় এর কোষগুলো ভেঙে যায়, ফলে কোষের ভেতরে থাকা বিভিন্ন উপাদান একে অপরের সংস্পর্শে আসার সুযোগ পায়। এ সময় ‘অ্যালিনেজ’ নামের একটি উৎসেচক সালফারযুক্ত যৌগের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। এই বিক্রিয়ার ফলে তৈরি হয় ‘সিন-প্রোপেনেথিয়াল-এস-অক্সাইড’ নামের একধরনের উদ্বায়ী রাসায়নিক পদার্থ। একে অশ্রু সৃষ্টিকারী উপাদানও বলা হয়ে থাকে।

এই উদ্বায়ী রাসায়নিক পদার্থটি বাতাসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং গ্যাসের মতো চোখে গিয়ে পৌঁছায়। এতে চোখের অত্যন্ত সংবেদনশীল স্নায়ু উত্তেজিত হয় এবং জ্বালাপোড়া শুরু হয়। চোখ তখন নিজেকে এই ক্ষতিকর রাসায়নিক থেকে রক্ষা করতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত পানি তৈরি করে ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করে। ঠিক এ কারণেই পেঁয়াজ কাটার সময় চোখ দিয়ে পানি পড়ে।

পেঁয়াজ কাটলে চোখে পানি কমাবেন যেভাবে

পেঁয়াজ কাটার সময় চোখে পানি পড়া পুরোপুরি বন্ধ করা বেশ কঠিন হলেও, কয়েকটি সহজ ঘরোয়া কৌশল অনুসরণ করলে অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব:

  • ১. ফ্রিজে রাখুন পেঁয়াজ: পেঁয়াজ কাটার আগে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে দিন। এতে ঠান্ডা হয়ে রাসায়নিক পদার্থের বাষ্পীভবন কমে যায়, ফলে চোখে জ্বালাপোড়াও তুলনামূলক কম হয়।

  • ২. ধারালো ছুরি ব্যবহার করুন: পেঁয়াজ কাটার সময় অবশ্যই ধারালো ছুরি ব্যবহার করবেন। ভোঁতা ছুরির চেয়ে ধারালো ছুরিতে পেঁয়াজের কোষ কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে বাতাসে ঝাঁজালো পদার্থ কম ছড়াতে পারে।

  • ৩. বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন: ফ্যানের বাতাস বা ভালো বায়ু চলাচল করে (ভেন্টিলেশন) এমন জায়গায় বসে পেঁয়াজ কাটুন। এতে ঝাঁজালো রাসায়নিক পদার্থ দ্রুত উড়ে যায় এবং চোখের কাছে কম পৌঁছাতে পারে।

পেঁয়াজ কাটার সময় চোখে পানি আসা কোনো অস্বাভাবিক বা ক্ষতিকর ঘটনা নয়। এটি মূলত চোখকে বিরক্তিকর রাসায়নিক পদার্থ থেকে রক্ষা করার জন্য মানবদেহের একটি স্বাভাবিক প্রতিরোধমূলক প্রতিক্রিয়া। তাই পেঁয়াজ কাটার সময় চোখে পানি এলে চিন্তার কিছু নেই; বরং ওপরের সহজ কৌশলগুলো মেনে চললেই অস্বস্তি অনেকটা এড়িয়ে চলা সম্ভব।