শীতের আগে ঘর পরিষ্কার করে নেওয়া শুধু ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য নয়, বরং আরামদায়ক ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। গরমের সময় অনেকেই ঘরের জানালা খোলা রাখেন। এতে বাতাসের সঙ্গে ধুলাবালি এসে পর্দা, আসবাব ও ঘরের বিভিন্ন কোণে জমতে পারে। শীত আসার আগে তাই ঘরের প্রতিটি অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া প্রয়োজন।

১. অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন

প্রথমেই ঘরের আলমারি, টেবিল, তাক ও ড্রয়ার গুছিয়ে নিন। দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয়নি এমন অপ্রয়োজনীয় জিনিস আলাদা করুন। পুরোনো কাগজ, খালি বোতল, নষ্ট জিনিস কিংবা অপ্রয়োজনীয় বাক্স সরিয়ে ফেললে ঘর অনেকটাই খোলামেলা দেখাবে। এতে পরিষ্কার করাও সহজ হবে।

২. পর্দা, বিছানার চাদর ও বালিশ পরিষ্কার করুন

ঘরের পর্দা, বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও কুশনে ধুলাবালি জমতে পারে। শীতের আগে এগুলো ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিন। কম্বল, লেপ ও শীতের চাদরও বের করে পরিষ্কার করে রাখুন। ব্যবহারের আগে সেগুলো সম্পূর্ণ শুকনো কি না, তা নিশ্চিত করুন।

৩. জানালা, দরজা ও ঘরের কোণ পরিষ্কার করুন

জানালার গ্রিল, কাচ, দরজার ফ্রেম এবং ঘরের কোণে জমে থাকা ধুলা পরিষ্কার করুন। ফ্যান, লাইট ও দেয়ালের ওপরের অংশেও ধুলা জমতে পারে। ওপরের অংশ থেকে পরিষ্কার শুরু করে শেষে মেঝে পরিষ্কার করলে কাজ সহজ হয়।

৪. রান্নাঘর ও বাথরুমে বাড়তি নজর দিন

রান্নাঘরের চুলা, সিঙ্ক, ক্যাবিনেট ও টাইলসে জমে থাকা তেল-ময়লা পরিষ্কার করুন। ফ্রিজের ভেতরের অপ্রয়োজনীয় খাবার সরিয়ে তাকগুলো মুছে নিন। বাথরুমের বেসিন, কমোড, আয়না ও মেঝে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। পরিষ্কারের সময় বিভিন্ন রাসায়নিক ক্লিনার একসঙ্গে মেশাবেন না।

৫. আসবাব ও ইলেকট্রনিকস পরিষ্কার করুন

সোফা, চেয়ার, টেবিল, আলমারি ও অন্যান্য আসবাবের ওপর জমে থাকা ধুলা মুছে ফেলুন। টেলিভিশন, কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পরিষ্কারের ক্ষেত্রে শুকনো মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করুন। যন্ত্রপাতি পরিষ্কারের আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখুন।

৬. শীতের পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখুন

শীতের পোশাক, মোজা, কম্বল, লেপ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস বের করে দেখে নিন। দীর্ঘদিন আলমারিতে রাখা কাপড় ব্যবহারের আগে ধুয়ে বা ভালোভাবে ঝেড়ে নিন। প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা তাক বা ঝুড়িতে সাজিয়ে রাখলে পরে সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে।

৭. মেঝে পরিষ্কার করে ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন

সবশেষে ঘরের মেঝে ভালোভাবে ঝাড়ু ও মোছা দিন। কার্পেট থাকলে সেটিও পরিষ্কার করুন। ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। পরিষ্কারের পর ঘর কিছুক্ষণ বাতাস চলাচলের উপযোগী রাখলে স্যাঁতসেঁতে ভাব কমতে সাহায্য করবে।

শীতের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে একদিনে পুরো ঘর পরিষ্কার করার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিন একটি করে অংশ পরিষ্কার করলে কাজের চাপ কমবে। সামান্য পরিকল্পনা ও নিয়মিত যত্নেই শীতের পুরো মৌসুমে ঘর রাখা সম্ভব পরিচ্ছন্ন, গোছানো ও আরামদায়ক।