সুগন্ধি বা পারফিউম ব্যবহার করতে আমরা সবাই কমবেশি ভালোবাসি। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই পারফিউমের তীব্র ঘ্রাণ শ্বাসকষ্ট, হাঁচি বা মাথাব্যথার মতো শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা সুগন্ধির প্রতি একটু বেশি সংবেদনশীল, তীব্র ঘ্রাণের সংস্পর্শে এলে তাঁদের এই সমস্যাগুলো আরও বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনের তথ্য অনুযায়ী, পারফিউম থেকে হওয়া এসব সমস্যার পেছনে বেশির ভাগ সময়ই প্রকৃত অ্যালার্জির চেয়ে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের ক্ষতিকর প্রভাব বেশি কাজ করে। প্রকৃত অ্যালার্জির ক্ষেত্রে মূলত প্রোটিন ও শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা জড়িত থাকে। পারফিউমের কোনো উপাদানে থাকা জৈব প্রোটিনের কারণে যখন শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা প্রতিক্রিয়া দেখায়, তখনই প্রকৃত ‘পারফিউম অ্যালার্জি’ দেখা দেয়। তবে সুগন্ধিজনিত অধিকাংশ সমস্যার জন্যই দায়ী এর কৃত্রিম উপাদান ও নানা ধরনের রাসায়নিক পদার্থ।

পারফিউম অ্যালার্জির সঙ্গে জড়িত এমন রাসায়নিকের সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি। উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব রাসায়নিকের অনেকগুলোর নামই সাধারণ পারফিউম বা কোলোনের বোতলের গায়ে থাকা উপাদানের তালিকায় উল্লেখ থাকে না।

গুরুতর লক্ষণ ও প্রাথমিক প্রতিকার

পারফিউম অ্যালার্জি গুরুতর আকার ধারণ করলে মুখ, ঠোঁট বা জিহ্বা ফুলে যেতে পারে। এমনকি অ্যানাফাইল্যাক্সিস নামের প্রাণঘাতী অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়াও দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে। চুলকানি ও নাক বন্ধ হওয়ার মতো প্রাথমিক সমস্যা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে সিটিরিজিন (জাইরটেক), ডাইফেনহাইড্রামিন (বেনাড্রিল) এবং লোরাটাডিনের (ক্লারিটিন) মতো মুখে খাওয়ার অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ সেবন উপকারে আসতে পারে।

সুগন্ধিজনিত কারণে ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। গলায় টান বা সংকোচনের কারণে শ্বাস নিতে অসুবিধা হলে এক মুহূর্ত দেরি না করে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে, কারণ এটি গুরুতর অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ হতে পারে।

শনাক্তকরণ ও সতর্কতা

ঠিক কোন উপাদানের কারণে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, তা শনাক্ত করতে চিকিৎসক বা অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞরা ‘প্যাচ টেস্ট’ করতে পারেন। এই পরীক্ষায় ত্বকের বিভিন্ন স্থানে অল্প পরিমাণে অ্যালার্জেন প্রয়োগ করে প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হয়। পারফিউমের কারণে সৃষ্ট অস্বস্তি এড়াতে দৈনন্দিন জীবনে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি:

  • যাঁরা সুগন্ধির প্রতি সংবেদনশীল, তাঁরা কর্মস্থলের কাছে ছোট আকারের এয়ার পিউরিফায়ার রাখতে পারেন, যা ঘরের ভেতরের বাতাসের মান উন্নত করে।

  • সহকর্মী ও আশপাশের মানুষকে নিজের শারীরিক সমস্যার কথা জানানো উচিত, যাতে তাঁরা তীব্র সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন।

  • কর্মস্থলে সুগন্ধিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়োগকর্তার সঙ্গেও আলোচনা করা যেতে পারে। বিশেষ করে একই সমস্যায় আক্রান্ত অন্য সহকর্মী থাকলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

  • পারফিউম ছাড়াও সুগন্ধিযুক্ত মোমবাতি, এয়ার ফ্রেশনারসহ অন্যান্য রাসায়নিক সুগন্ধি পণ্য এড়িয়ে চললে সম্ভাব্য উদ্দীপক উপাদানের সংস্পর্শ কমানো সম্ভব।