পড়াশোনা, পরীক্ষা কিংবা কাজের অতিরিক্ত ব্যস্ততায় অনেক সময়ই পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়ে শরীর ও চেহারায়। বিশেষ করে চোখের নিচে কালচে দাগ (ডার্ক সার্কেল), ফোলা ভাব কিংবা সূক্ষ্ম ভাঁজ দেখা দিতে পারে। চোখের চারপাশের ত্বক মুখের অন্যান্য অংশের তুলনায় অত্যন্ত পাতলা ও সংবেদনশীল হওয়ায় এই অংশে বয়সের পরিবর্তন ও অন্যান্য বাহ্যিক প্রভাব খুব সহজেই দৃশ্যমান হয়।

চোখের নিচে কালি ও ফোলা ভাব কেন হয়?

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চোখের নিচের রক্তনালিগুলো আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। পাশাপাশি চোখের চারপাশের টিস্যুতে তরল জমে সাময়িকভাবে ফোলা ভাব বা ‘আই ব্যাগ’ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু ঘুমের অভাবই এর একমাত্র কারণ নয়; বংশগত বৈশিষ্ট্য, ত্বকের পুরুত্ব কমে যাওয়া, অতিরিক্ত রোদে থাকা এবং শরীরে পানির ঘাটতির কারণেও চোখের নিচে কালচে দাগ দেখা দিতে পারে। আবার ক্লান্তি বা অ্যানিমিয়ার (আয়রনের অভাব) কারণে মুখের ত্বক ফ্যাকাশে দেখালেও চোখের নিচের রক্তনালিগুলো বাইরে থেকে নীলচে বা বেগুনি আভার মতো দৃশ্যমান হয়।

ফোলা ভাব ও কালচে দাগ কমানোর উপায়

চোখের নিচে ফোলা ভাব বা কালচে দাগ দেখা দিলে কয়েকটি সহজ উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে:

  • পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম: ডার্ক সার্কেল কমাতে প্রথমেই নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের সাধারণত প্রতিদিন রাতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

  • ঠান্ডা সেঁক দেওয়া: রাত জাগার পর সকালে চোখের নিচে ফোলা ভাব দেখা দিলে একটি পরিষ্কার কাপড়ে মোড়ানো ঠান্ডা সেঁক চোখ বন্ধ করে কয়েক মিনিট ধরে রাখতে পারেন। এতে সাময়িকভাবে ফোলা ভাব কমে যাবে। তবে সরাসরি বরফ ত্বকে লাগানো উচিত নয়।

  • লবণ খাওয়া কমানো: খাবারে অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাস কমাতে হবে। কারণ বেশি লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে, যার সরাসরি প্রভাব চোখের নিচে ফোলা ভাব হিসেবে দেখা দিতে পারে।

  • পানি পান ও পুষ্টি: প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং সুষম খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার সমাধান করতে হবে।

  • সানগ্লাস ও প্রসাধনীর ব্যবহার: রোদে বের হলে নিয়মিত সানগ্লাস ব্যবহার করুন। চোখের চারপাশের ত্বকের জন্য তৈরি উপযোগী প্রসাধনী কালচে দাগ কমাতে সহায়ক হতে পারে; তবে কোনো প্রসাধনীতে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি হলে তা ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

চোখের নিচে কালচে দাগ বা ফোলা ভাব থাকা মানেই যে কোনো মারাত্মক রোগ হয়েছে, বিষয়টি এমন নয়। তবে হঠাৎ করে যদি দাগ বা ফোলা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, শুধু এক চোখের নিচে বেশি ফোলা দেখা দেয় কিংবা এর সঙ্গে ব্যথা ও অন্য কোনো উপসর্গ থাকে, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।