মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) নিজের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করলেন লিওনেল মেসি। ২০২৬ মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে টানা দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জিতেছেন ইন্টার মায়ামির আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। লিগের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে পরপর দুই মৌসুমে এই কীর্তি গড়লেন তিনি।

চলতি মৌসুমে ৩১ ম্যাচে মেসির গোলসংখ্যা ২৬। এর আগে গত মৌসুমে ২৮ ম্যাচে ২৯ গোল করে প্রথমবার এই পুরস্কার জিতেছিলেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা। সব মিলিয়ে এমএলএসে দ্বিতীয়বারের মতো সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি পেলেন তিনি। এর আগে পাঁচজন খেলোয়াড় একাধিকবার গোল্ডেন বুট জিতলেও কেউ টানা দুই মৌসুমে তা করতে পারেননি।

গোলের দৌড়ে এবার মেসির কাছাকাছি যেতে পারেননি প্রতিদ্বন্দ্বীরা। ২২ গোল করে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন এফসি ডালাসের ক্রোয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড পেতার মুসা। আর ২১ গোল নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছেন ন্যাশভিলের স্যাম সারিজ। ব্যবধানই বলে দিচ্ছে, গোলদাতাদের তালিকায় মেসি কতটা এগিয়ে ছিলেন।

তবে মেসির অবদান কেবল গোলের হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়। সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও দুর্দান্ত ছিলেন তিনি। ২০২৬ মৌসুমে তাঁর অ্যাসিস্ট ১৭টি। গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে মোট ৪৩টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। গত মৌসুমেও ১৯টি অ্যাসিস্ট নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন তিনি।

নিয়মিত মৌসুমের শেষ ম্যাচে শার্লট এফসির বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র করেছে ইন্টার মায়ামি। ম্যাচে নিজে গোল না পেলেও মেসির কর্নার থেকে প্রথমার্ধে গোল করেন ইয়ান ফ্রে। আরেকটি কর্নার থেকেও গোলের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখেন তিনি। প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি মায়ামি।

এই ড্রয়ে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে মায়ামি। ফলে প্লে-অফের প্রথম রাউন্ডে নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধা পাবে দলটি। তিন ম্যাচের সিরিজে তাদের প্রতিপক্ষ সপ্তম স্থানে থাকা কলম্বাস ক্রু। অন্যদিকে মেসির সামনে অপেক্ষা করছে ব্যক্তিগত আরেকটি সম্ভাব্য রেকর্ড। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এমএলএসের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা এই তারকা এবারও এমভিপি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে। ২০২৬ সালে পুরস্কারটি জিতলে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনবার এমভিপি হওয়ার কীর্তি গড়বেন তিনি।