সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন দুই প্রবাসী ফুটবলার হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী ওয়াহিদ। আগামী ৯ নভেম্বর (সোমবার) ঢাকায় পৌঁছাবেন তারা। একই দিন দলের অনুশীলনেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাদের। শনিবার বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু এ তথ্য জানিয়েছেন। দুই ফুটবলারের আগমনে দলের শক্তি ও আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার বিকেলে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুশীলন করে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। অনুশীলনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু ও মিডফিল্ডার শেখ মোরসালিন। এ সময় দলের বর্তমান পরিস্থিতি, খেলোয়াড়দের চোট এবং হামজা ও ফারহানের যোগ দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তারা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমিরুল ইসলাম বাবু জানান, ফিফা উইন্ডো ও অন্যান্য কারণে এখনো দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী ওয়াহিদ। তবে তাদের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে শিগগিরই। আগামী ৯ নভেম্বর দুজনই ঢাকায় এসে পৌঁছাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সেদিনই তাদের অনুশীলনে দেখা যেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন দলের এই ম্যানেজার।
বাংলাদেশের ফুটবলে হামজা চৌধুরী অন্যতম বড় তারকা। তার উপস্থিতি দলের মাঝমাঠের শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের লিগে খেলা ফারহান আলী ওয়াহিদের অন্তর্ভুক্তিও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের বাকি ম্যাচগুলোতে তাদের কাছ থেকে ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা থাকবে সমর্থকদের।
এদিকে প্রথম ম্যাচে ২৩ সদস্যের স্কোয়াডে জায়গা হয়নি মিডফিল্ডার শেখ মোরসালিনের। তবে পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। হামজা ও ফারহানের যোগ দেওয়া নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে মোরসালিন বলেন, দুই ফুটবলার দলে ফিরলে দলের স্পিরিট আরও বাড়বে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
মোরসালিনের মতে, দলের মধ্যে আগে থেকেই ভালো মানসিকতা ও উদ্দীপনা রয়েছে। হামজা ও ফারহান যোগ দিলে সেই আত্মবিশ্বাস আরও শক্তিশালী হবে। জাতীয় দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ভালো কিছু করার প্রত্যাশাও রয়েছে তার।
অন্যদিকে বাংলাদেশের রক্ষণভাগেও রয়েছে ইনজুরি সমস্যা। আগের ম্যাচে সেরা একাদশে থাকলেও ওয়ার্মআপের সময় হঠাৎ চোটে পড়েন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। ফলে ম্যাচের আগেই মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় তাকে। তার অনুপস্থিতি দলের রক্ষণভাগের পরিকল্পনায় কিছুটা প্রভাব ফেলেছে।
তপু বর্মণের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমিরুল ইসলাম বাবু জানান, বিদেশি ফিটনেস ট্রেনারের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এই ডিফেন্ডার। তবে পরবর্তী ম্যাচে তার খেলা নিশ্চিত নয়। আগামী ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে কোচ থমাস ডুলি প্রয়োজন মনে করলে তপুকে মাঠে নামাতে পারেন।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ। তবে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ভালো ফল পেতে পূর্ণ শক্তির দল গঠন করাই এখন কোচের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। হামজা ও ফারহানের যোগ দেওয়া এবং তপু বর্মণের সুস্থ হয়ে ওঠা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন