গত মৌসুমে কোপা দেল রে ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গুরুত্বপূর্ণ দুই লড়াইয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল বার্সেলোনার। সেই হারের তিক্ত স্মৃতি এবার জয় দিয়ে মুছে ফেলতে চায় হান্সি ফ্লিকের দল। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘স্পোর্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামীকালের লা লিগা ম্যাচে আতলেতিকোর বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বার্সেলোনার ড্রেসিংরুমে প্রতিশোধের বাড়তি তাড়না কাজ করছে।
দুই দলের এবারের লড়াইয়ে শুধু তিন পয়েন্ট নয়, জড়িয়ে রয়েছে গত মৌসুমের অপূর্ণ স্বপ্নের হিসাবও। রিয়াদ এয়ার মেট্রোপলিটনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটিতে জয় পেলে বার্সেলোনা একদিকে যেমন পুরোনো হারের জবাব দিতে পারবে, অন্যদিকে লা লিগার শীর্ষস্থান ধরে রাখার পথও আরও শক্তিশালী হবে।
গত মৌসুমে লা লিগা, কোপা দেল রে ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলিয়ে মোট ছয়বার মুখোমুখি হয়েছিল বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদ। পরিসংখ্যানের হিসাবে এগিয়ে ছিল কাতালান ক্লাবটি। ছয় ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জয় পেয়েছিল বার্সা, আর বাকি দুটিতে জিতেছিল দিয়েগো সিমিওনের দল।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই নকআউট লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করেছিল আতলেতিকো। প্রথমে কোপা দেল রে-র সেমিফাইনাল থেকে বার্সেলোনাকে বিদায় করে তারা। এরপর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালেও একই পরিণতি হয় ফ্লিকের দলের। ফলে দুটি বড় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন মাঝপথেই থেমে যায় বার্সেলোনার।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে নিজেদের মাঠ স্পোটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে ২-০ গোলে হেরেছিল বার্সা। ওই ম্যাচের প্রথমার্ধেই পাউ কুবারসির লাল কার্ড পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে। একজন কম নিয়ে খেলতে হওয়ায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে কাতালানদের জন্য।
ফিরতি লেগে মেট্রোপলিটনে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল বার্সেলোনা। সেই ম্যাচেও এরিক গার্সিয়া লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও লড়াই চালিয়ে যায় ফ্লিকের শিষ্যরা। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় পেলেও দুই লেগ মিলিয়ে পিছিয়ে থাকায় প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের।
শুধু হারের হতাশাই নয়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ওই ম্যাচে রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তুষ্ট ছিল বার্সেলোনা। দলটির বিশ্বাস, বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে গেছে। ফলে আতলেতিকোর বিপক্ষে নতুন ম্যাচটি সামনে এলেই গত মৌসুমের সেই হতাশার স্মৃতি আবারও ফিরে আসছে ড্রেসিংরুমে।
কোপা দেল রে-তেও বার্সেলোনার বিদায়ের গল্পটা ছিল প্রায় একই রকম। সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আতলেতিকোর মাঠে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছিল তারা। দ্বিতীয় লেগে নিজেদের মাঠে ৩-০ গোলে জিতে দারুণ প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও দুই লেগ মিলিয়ে পিছিয়ে থাকায় ফাইনালে ওঠা সম্ভব হয়নি।
গত মৌসুমের সেই দুই পরাজয়ের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন দলবদল ঘিরে মাঠের বাইরের বিভিন্ন উত্তেজনাও দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সব মিলিয়ে আগামীকালের ম্যাচটি দুই দলের জন্যই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বিশেষ করে বার্সেলোনার কাছে এটি কেবল নিয়মিত লিগ ম্যাচ নয়, বরং পুরোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ।
ম্যাচটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের হিসাব। আতলেতিকো মাদ্রিদ যদি নিজেদের মাঠে বার্সেলোনাকে হারাতে পারে, তাহলে পয়েন্ট টেবিলে তাদের টপকে শীর্ষস্থান দখল করার সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে বার্সেলোনার লক্ষ্য ব্যবধান ধরে রেখে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করা।
এ ছাড়া বড় ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করার চাপও রয়েছে ফ্লিকের দলের ওপর। গত মাসে পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হারের পর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইতিবাচক ফল আনার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই আতলেতিকোর বিপক্ষে জয় পেলে সেই সমালোচনার জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবে বার্সেলোনা।
তবে কোচ হান্সি ফ্লিকের পরিকল্পনা ও দলের স্পোর্টিং প্রজেক্ট নিয়ে ড্রেসিংরুমে আস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমটি। খেলোয়াড়দের বিশ্বাস, আতলেতিকোর মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারাতে পারলে দলের আত্মবিশ্বাস ফিরবে। একই সঙ্গে গত মৌসুমের দুই নকআউট পরাজয়ের ক্ষতেও কিছুটা প্রলেপ পড়বে। এখন দেখার বিষয়, প্রতিশোধের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কারা হাসে শেষ হাসি।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন