ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ এনে দিয়েছেন তাওহিদ হৃদয়। ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে যখন চাপে ছিল বাংলাদেশ, তখন দলের হাল ধরেন এই তরুণ ব্যাটার। ড্রেসিংরুম থেকে কোনো বিশেষ নির্দেশনা নয়, বরং নিজের ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তা ও পরিস্থিতি বুঝে নেওয়া সিদ্ধান্তেই এমন অসাধারণ ইনিংস খেলেছেন তিনি। বিষয়টি জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।
মিরপুর টেস্টের হতাশা পেছনে ফেলে দ্বিতীয় টেস্টে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। হৃদয়ের ব্যাটে ভর করে দল পৌঁছে যায় ৩৮৬ রানের বড় সংগ্রহে। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন তিনি। তার এই ইনিংসে ছিল অসাধারণ ধৈর্য, দায়িত্বশীলতা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করার দক্ষতা।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ফিল সিমন্স বলেন, উইকেটে যাওয়ার পর ব্যাটারদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয়। দলের প্রত্যাশা থাকে, সুযোগ পেলে প্রত্যেকে যেন তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করেন। হৃদয়ও সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। দলের প্রয়োজন বুঝে নিজের নিয়ন্ত্রণে ম্যাচের পরিস্থিতি নিয়ে আসতে পেরেছেন তিনি।
ড্রেসিংরুম থেকে হৃদয়কে কোনো নির্দিষ্ট বার্তা পাঠানো হয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিমন্স জানান, ব্যাটারদের প্রতিভার ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। কীভাবে ব্যাট করতে হবে, সে বিষয়ে বাইরে থেকে নির্দেশনা দেওয়ার পক্ষে নন তিনি। তার মতে, মাঠে যাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ব্যাটারের নিজের। হৃদয়ও নিজের ভাবনা থেকেই ইনিংসটি সাজিয়েছেন। প্রথমে মুশফিকুর রহিম এবং পরে তাইজুল ইসলামদের সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন তিনি।
ক্লান্তি জয় করে অবিশ্বাস্য ডাবল সেঞ্চুরি
মিরপুরে প্রথম টেস্টে বাজে শট খেলে আউট হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন হৃদয়। তবে এই ম্যাচে সুযোগ পেয়েই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। মুমিনুল হকের ইনজুরির কারণে একাদশে সুযোগ পাওয়া এই ব্যাটার নিজের ব্যাটিং দিয়ে বদলে দিয়েছেন ম্যাচের চিত্র।
হৃদয়ের ইনিংসকে অসাধারণ বলে উল্লেখ করেছেন সিমন্স। তার মতে, ডাবল সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও বাউন্ডারি খোঁজার চেষ্টা থামাননি এই ব্যাটার। ফিল্ডাররা সীমানার কাছে অবস্থান করলেও চার-ছক্কা মারার পথ বের করে নিয়েছেন তিনি। শট নির্বাচন, খেলার পরিস্থিতি বোঝা এবং শেষ দিকের ব্যাটারদের স্ট্রাইক দেওয়ার ক্ষেত্রেও পরিণত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন।
প্রথম টেস্টের ব্যর্থতা নিয়ে হৃদয়কে দোষারোপ করতে চান না কোচ। সিমন্স মনে করেন, ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমে এমন অভিজ্ঞতা একজন তরুণ ব্যাটারের জন্য স্বাভাবিক। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই হৃদয়ের পরিণত হয়ে ওঠার বিষয়টি তার কাছে প্রশংসনীয়।
টেল-এন্ডারদের অবদানেও মুগ্ধ কোচ
হৃদয়ের এই মহাকাব্যিক ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন দলের লেজের ব্যাটাররাও। ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ১১৭ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। এরপর তাসকিন আহমেদের সঙ্গে যোগ করেন আরও ৮৫ রান। তাদের এই লড়াই বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে সাহায্য করে।
তাইজুল ও তাসকিনের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে সিমন্স বলেন, বোলারদের কাছ থেকে এমন দায়িত্বশীলতাই প্রত্যাশা করেন তারা। উইকেটে একজন স্বীকৃত ব্যাটার থাকলে তার পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। অনুশীলনে দীর্ঘদিন ধরে যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হয়েছে, এই ম্যাচে লেজের ব্যাটাররা সেটিই মাঠে বাস্তবায়ন করেছেন।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন