নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বৃষ্টির সহায়তায় ৪ রানের জয় পেয়েছে ভারত। জয়ের জন্য মাত্র ১৩৫ রানের লক্ষ্য পেয়েও স্বাগতিক বোলারদের তোপে পড়ে একসময় বড় হারের শঙ্কায় ছিল সফরকারীরা। ৪৭ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। তবে ২১ ওভারের খেলা শেষে বৃষ্টি নামলে আর মাঠে গড়ায়নি ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ৪ রানের জয় পায় ভারত। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দলটি।

শনিবার ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত হয় সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের পরে শুরু হয় ম্যাচটি। টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক। শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের চাপে রাখেন ভারতের বোলাররা। ফলে বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ পায়নি স্বাগতিকেরা। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৩৪ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।

নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরুটা করেন আকিব নবী। ইনিংসের শুরুতেই দুই ওপেনারকে সাজঘরে ফিরিয়ে স্বাগতিকদের চাপে ফেলেন তিনি। এরপর আনশুল কাম্বোজের শিকার হন নিকলস। মাত্র ২৩ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে নিউজিল্যান্ড।

এরপর বল হাতে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন গুরনূর ব্রার। একই ওভারে টম ল্যাথাম ও গ্লেন ফিলিপসকে ফিরিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন তিনি। পরে মিচেল স্যান্টনারকেও প্যাভিলিয়নে ফেরান এই পেসার। শেষ দিকে আরও একটি উইকেট তুলে নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের কীর্তি গড়েন গুরনূর। ৩০ রান খরচায় চার উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস গুটিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

জবাবে ১৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে ভারত। নিউজিল্যান্ডের পেসার জ্যাকব ডাফির বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। শুভমান গিল কোনো রান করার আগেই সাজঘরে ফেরেন। অন্যদিকে বিরাট কোহলির ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৭ রান। ফলে অল্প রান তাড়া করতে নেমেও চাপে পড়ে যায় ভারত।

অধিনায়ক রোহিত শর্মার কাছ থেকে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা থাকলেও সেটি পূরণ হয়নি। চারটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে থামতে হয় তাকে। জ্যাকব জেমিসনের বলে আউট হন এই ওপেনার। এরপর অক্ষর প্যাটেল থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ৪৭ রানেই চার উইকেট হারায় ভারত। তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিউজিল্যান্ডের হাতে চলে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন শ্রেয়াস আইয়ার ও লোকেশ রাহুল। দুজন মিলে গড়ে তোলেন ৩৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। তাদের ব্যাটিংয়ে কিছুটা স্বস্তি ফেরে ভারতীয় শিবিরে। তবে আইয়ারের বিদায়ে আবারও চাপে পড়ে দলটি। পরে ব্যাট করতে নেমে ধীরের দুটি বাউন্ডারি ভারতের স্কোর এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে নিজের বোলিংয়ের দাপট ধরে রাখেন জ্যাকব জেমিসন। নিজের শেষ ওভারে আনশুল কাম্বোজকে ফিরিয়ে তিন উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। এতে ভারতের জয়ের পথ আরও কঠিন হয়ে ওঠে। ২১ ওভারের খেলা শেষে ভারতের প্রয়োজন ছিল ২২ রান, হাতে ছিল মাত্র তিন উইকেট।

ঠিক এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আবারও শুরু হয় বৃষ্টি। আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়ায় ম্যাচ পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে ডিএলএস পদ্ধতিতে ভারতকে ৪ রানে বিজয়ী ঘোষণা করেন ম্যাচ কর্মকর্তারা। ফলে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা দারুণ লড়াই করেও জয় তুলে নিতে পারেনি। বৃষ্টির সহায়তায় পাওয়া এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল ভারত।