শহর শুধু বড় বড় ভবন আর প্রশস্ত সড়কের সমষ্টি নয়। একটি নগরকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তুলতে প্রয়োজন পরিকল্পিত আবাসন, কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবেশ সুরক্ষা ও নাগরিক সুবিধা। এসব বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই আজ রবিবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস।

পরিকল্পিত নগরায়ণের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি দিবসটি নগর উন্নয়নে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তাও মনে করিয়ে দেয়। নগর পরিকল্পনা কেবল বিশেষজ্ঞ বা নীতিনির্ধারকদের কাজ নয়; যে এলাকায় উন্নয়ন হবে, সেখানকার বাসিন্দাদের মতামতও পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত।

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘পরিকল্পনার মাধ্যমে গড়ে ওঠে সুন্দর জনপদ’। এবারের আয়োজনে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা, চাহিদা ও মতামতকে নগর পরিকল্পনায় যুক্ত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়লে শহর আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ ও জলবায়ু সহনশীল হয়ে উঠতে পারে।

দিবসটির সূচনা হয় ১৯৪৯ সালে। আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নগর পরিকল্পনাবিদ কার্লোস মারিয়া দেলা পাওলেরার উদ্যোগে প্রথমবারের মতো বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস পালনের ধারণা সামনে আসে। এরপর থেকে বিভিন্ন দেশে নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান মনে করেন, বাসযোগ্য শহর গড়তে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই চলবে না। পরিবেশ, আবাসন, যোগাযোগ, পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকা জরুরি। এসব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনায় না নিলে নগরের উন্নয়ন টেকসই হবে না।

বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস তাই শুধু আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়; বরং ভবিষ্যতের শহর কেমন হবে, সে বিষয়ে নতুন করে ভাবার উপলক্ষ। পরিকল্পনাবিদ, জনপ্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক ও নগরবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগেই গড়ে উঠতে পারে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সবার জন্য বাসযোগ্য জনপদ।