জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতির জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি নিয়ে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ১০ নভেম্বর তাঁর এই সফর শুরু হবে। দুই দিনের সফর শেষে ১২ নভেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি জানান বন ও পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ১৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সামনে রেখেই কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিলের অর্থ বাড়ানোর দাবি তোলা হবে।

বাংলাদেশের অবস্থান শুধু ক্ষতির পরিমাণ তুলে ধরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো যেন প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ সহায়তা পায়, সেটিও নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সায়মুম পারভেজ জানান, ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের দাবি জানাবে বাংলাদেশ।

তিনি আরও জানান, এ দাবি এককভাবে নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসব দেশের অবস্থান আরও জোরালো করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন বা কপ-৩১ আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনাতোলিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবে তুরস্ক। আর আনুষ্ঠানিক আলোচনার নেতৃত্ব দেবে অস্ট্রেলিয়া। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান ও করণীয় তুলে ধরবেন।

এবারের সম্মেলনের আলোচনায় নতুন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি আগের সম্মেলনগুলোতে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙনসহ নানা ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে দেশটিকে। তাই ক্ষয়ক্ষতির উপযুক্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করতে কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের দাবি কতটা গুরুত্ব পায়, সেদিকেই থাকবে নজর।