চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ড্রাগওয়েল অর্থাৎ সৌরবিদ্যুৎচালিত পাতকুয়ো স্থাপনের মাধ্যমে কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের এই আধুনিক প্রযুক্তি কৃষি কাজে সেচ সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতেও দারুণ ভূমিকা রাখছে। সোলার প্যানেল থেকে সৌরশক্তি ব্যবহার করে যন্ত্রের মাধ্যমে সেই পানি সরাসরি যাচ্ছে কৃষিজমির সেচ কাজে। সৌরশক্তির মাধ্যমে এই পাম্প চলায় তেল খরচের বা লোডশেডিংয়ের কোনো ঝামেলা নেই। ফলে পাতকুয়োর চারপাশের মাটিতে এখন নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করতে পারছেন কৃষকরা।
কৃষক ও প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা জানান, এই পাতকুয়োগুলোর ফলে পাহাড়ের পাদদেশের পতিত ও অনাবাদি জমিতে এখন সফলভাবে আবাদ হচ্ছে। মীরসরাইয়ের পূর্ব অলিনগর গ্রামের যে জায়গায় পাতকুয়োটি স্থাপন করা হয়েছে, সেখানে আগে পানির অভাবে কিছুই হতো না।
কিন্তু এখন অনাবাদি ও শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ২০ একর জমি চাষাবাদের আওতায় এসেছে। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর বড় একটি সুযোগ রয়েছে। পরিবেশবান্ধব এ প্রযুক্তি কৃষির আধুনিকায়ন এবং দেশে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সহকারী প্রকৌশলী তমাল দাশ জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষিকে আরও আধুনিক, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হচ্ছে এই ড্রাগওয়েল। মীরসরাইয়ে তারা মোট ৬টি ড্রাগওয়েল স্থাপন করেছেন।
পরিবেশবান্ধব ও আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী এই পাতকুয়োর মাধ্যমে অনায়াসে ধান চাষ, সবজি ও ফলমূল আবাদ করা যায়। মীরসরাইয়ের পাহাড়ি বেলে মাটি এবং পানির স্তর অত্যন্ত ভালো। প্রকৌশলী তমাল আরও জানান, ড্রাগওয়েল পুরোপুরি ভূগর্ভস্থ না আবার পুরোপুরি ভূ-উপরিস্থ না, এটি হচ্ছে সাব সারফেস (Sub-surface)। এমন স্তরের পানি ব্যবহার করা পরিবেশের জন্য কোনো হুমকি নয়। একটি ড্রাগওয়েল স্থাপনে সরকারের প্রায় ১৭ লাখ টাকা খরচ হয়। এই ড্রাগওয়েল মূলত কৃষকরাই কমিটি করে রক্ষণাবেক্ষণ করেন, এতে সরকারকে বা বিএডিসি’কে পরবর্তীতে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ খরচ দিতে হয় না।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন