দেশের বাইরে ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা কিংবা চাকরির জন্য পাসপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি। বাংলাদেশে বর্তমানে ঘরে বসেই অনলাইনে ই-পাসপোর্টের আবেদন করা যায়। তবে আবেদন করতে কত টাকা লাগে, কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন এবং কত দিনে পাসপোর্ট পাওয়া যায়, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের সাধারণ ফি ৪ হাজার ২৫ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি ৫ হাজার ৭৫০ টাকা।

ই-পাসপোর্টের খরচ মূলত পাসপোর্টের মেয়াদ, পাতার সংখ্যা এবং ডেলিভারির ধরনের ওপর নির্ভর করে। ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট জরুরি ভিত্তিতে পেতে খরচ হবে ৬ হাজার ৩২৫ টাকা। আর অতি জরুরি সেবার জন্য দিতে হবে ৮ হাজার ৬২৫ টাকা। এসব ফিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে, ৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের সাধারণ ফি ৫ হাজার ৭৫০ টাকা। জরুরি সেবায় খরচ হবে ৮ হাজার ৫০ টাকা এবং অতি জরুরি সেবায় ১০ হাজার ৩৫০ টাকা। সরকারি ফি তালিকায় ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে এই বুকলেটের বিতরণ সাময়িক বন্ধের নোটিশ থাকায় আবেদন করার আগে প্রাপ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

ই-পাসপোর্ট করতে প্রথমেই প্রয়োজন জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ। ২০ বছরের বেশি বয়সীদের জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সীরা জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা ইংরেজি সংস্করণের অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করতে পারবেন। আর ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধনের পাশাপাশি বাবা বা মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য প্রয়োজন।

আবেদনের জন্য অনলাইনে পূরণ করা ফরমের প্রিন্ট কপি সঙ্গে রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন হবে পরিচয়পত্রের মূল ও ফটোকপি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ফি পরিশোধের চালান। বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা টেলিফোন বিল কিংবা চাকরি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র লাগতে পারে। পুরোনো পাসপোর্ট থাকলে রি-ইস্যুর সময় সেটির মূল কপি ও ফটোকপিও প্রয়োজন।

সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী অনাপত্তিপত্র বা সরকারি আদেশ জমা দিতে হবে। চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন কারিগরি পেশার আবেদনকারীদের পেশাগত সনদ প্রয়োজন হতে পারে। বৈবাহিক অবস্থার পরিবর্তন হলে বিবাহ সনদ বা তালাকনামাও জমা দিতে হবে। তবে সাধারণ আবেদনকারীদের আলাদা ছবি সংযুক্ত বা কাগজপত্র সত্যায়ন করার প্রয়োজন নেই।

ই-পাসপোর্টের সাধারণ ডেলিভারির নির্ধারিত সময় ১৫ কর্মদিবস। জরুরি সেবায় সাত কর্মদিবস এবং অতি জরুরি সেবায় দুই কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এই সময় গণনা করা হয় বায়োমেট্রিক তথ্য গ্রহণের পর থেকে। তবে তথ্যগত অসংগতি বা যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে পাসপোর্ট পেতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।

আগ্রহীরা www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। সেখানে ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা, পাসপোর্টের মেয়াদ এবং ডেলিভারির ধরন নির্বাচন করতে হবে। নির্ধারিত পদ্ধতিতে ফি পরিশোধের পর সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হবে। আবেদন করার আগে সব তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।