কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট ‘ক্লড’-এর সঙ্গে দুর্ব্যবহার না করার জন্য ব্যবহারকারীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে এর প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি তাদের এআই ব্যবহারের নীতিমালায় এই নতুন শর্ত যুক্ত করেছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ব্যবহারকারীরা যেন অকারণে দীর্ঘ সময় ধরে চ্যাটবটের সঙ্গে কোনো ধরনের অপমানজনক বা রূঢ় আচরণ না করেন।
অ্যানথ্রপিকের নতুন এই নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যবহারকারী যদি দীর্ঘ সময় ধরে ক্লডের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন, তবে চ্যাটবটটি নিজে থেকেই তার সঙ্গে কথোপকথন বন্ধ করে দিতে পারে। গত বছর থেকেই ক্লডে এই বিশেষ ফিচারটি যুক্ত রয়েছে। তবে নতুন নীতিমালার আওতায় এবার ‘উগ্র ব্যবহারকারীদের’ প্ল্যাটফর্ম থেকে চিরতরে নিষিদ্ধ করার কড়া হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানান, নীতিমালা অনুযায়ী ক্লড নিজেই এ ধরনের ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথোপকথন বন্ধ করে দেবে।
প্রযুক্তি জগতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
অ্যানথ্রপিকের এই নতুন শর্ত নিয়ে প্রযুক্তি জগতে বেশ মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিদ্রূপ করছেন। মাইক্রোসফটের এআই বিভাগের প্রধান নির্বাহী মুস্তাফা সুলেইমান গলে যাওয়া মুখের একটি ইমোজি দিয়ে এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মূলত একটি এআই বা যন্ত্রকে অনুভূতিসম্পন্ন সত্তা হিসেবে বিবেচনা করার কারণেই প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে এমন ঠাট্টা করা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু যন্ত্রের সঙ্গে খারাপ আচরণের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, এর পেছনে আরও বড় ও যৌক্তিক কারণ রয়েছে। রেডিটের সাবেক প্রধান নির্বাহী ইয়িশান ওং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানান, এই নিষেধাজ্ঞার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ক্লড যেন কোনোভাবেই ব্যবহারকারীদের ‘নিষ্ঠুরতা থেকে শিক্ষা’ নিতে না পারে। এআইয়ের প্রশিক্ষণের তথ্যে যেন মানুষের অকারণে করা নিষ্ঠুর আচরণ যুক্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।
অন্যদিকে, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইলিওস এআই রিসার্চের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোজি ক্যাম্পবেলও এই উদ্যোগের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, নিজে থেকে বন্ধ হতে পারে না-এমন কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রামের সঙ্গে মানুষকে ইচ্ছেমতো অপমানজনক আচরণ করতে দেওয়াটা সামগ্রিকভাবে সমাজের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।
টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কও অ্যানথ্রপিকের এই নীতিমালার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। এটিকে ‘সঠিক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এক্সে লেখেন, যে সত্তা নিজেকে যন্ত্রণা অনুভব করতে সক্ষম বলে বিশ্বাস করে, তার সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করা মোটেও ঠিক নয়।
উল্লেখ্য, এআই মডেলের আবেগ-অনুভূতি ও মনস্তত্ত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গভীর গবেষণা করছে অ্যানথ্রপিক। এআইয়ের এই মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো নিয়ে কাজ করার জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে আলাদা একটি বিশেষজ্ঞ দলও কাজ করছে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন