পাকিস্তানি নাটকের একটি চরিত্র নিয়ে এখন আলোচনা চলছে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। চরিত্রটির নাম আবু বকর। জনপ্রিয় উর্দু ধারাবাহিক ‘দার-এ-নাজাত’-এ এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন পাকিস্তানি অভিনেতা শেহেরিয়ার মুনাওয়ার। চরিত্রটির ব্যক্তিত্ব, ভালোবাসা প্রকাশের ধরন এবং ভেতরের দ্বন্দ্ব দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে এসেছে।
ইন্টারনেট ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের কল্যাণে এখন দেশের সীমানা পেরিয়ে নানা ভাষার নাটক ও চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা। সেই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানি নাটকও বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠছে। সম্প্রতি ‘দার-এ-নাজাত’ নাটকের আবু বকর চরিত্রটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা বাড়ছে।
২০২৬ সালের ১ আগস্ট প্রচার শুরু হয় ‘দার-এ-নাজাত’ নাটকটির। এটি প্রচারিত হচ্ছে পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই ডিজিটালে। নাটকটিতে আবু বকর চরিত্রে শেহেরিয়ার মুনাওয়ার, জারিয়াব হাবিব চরিত্রে দুর-এ-ফিশান সেলিম এবং জামিল হুসাইন চরিত্রে নামির নওয়াজ খান অভিনয় করছেন। গল্পের নানা মোড় ও চরিত্রগুলোর সম্পর্কের টানাপোড়েন দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে।
কে এই শেহেরিয়ার মুনাওয়ার?
আবু বকর চরিত্রে অভিনয় করা শেহেরিয়ার মুনাওয়ার পাকিস্তানের পরিচিত অভিনেতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা, পরিচালক ও প্রযোজক। ১৯৮৮ সালের ৯ আগস্ট করাচিতে জন্ম তার। অভিনয়ে আসার আগে করাচির ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে ফিন্যান্স ও মার্কেটিং বিষয়ে পড়াশোনা করেন তিনি।
মডেলিং ও টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন শেহেরিয়ার। ২০১২ সালে ‘মেরে দর্দ কো জো জুবান মিলে’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় তার। প্রথম দিকের অভিনয়েই দর্শকদের নজর কাড়েন তিনি। এ কাজের জন্য হুম অ্যাওয়ার্ডে সেরা টেলিভিশন সেনসেশন পুরস্কারও পান।
সম্প্রতি বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্কে হারুন রশিদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আবু বকর চরিত্রের নানা দিক তুলে ধরেছেন এই অভিনেতা। তার মতে, চরিত্রটির অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টা। অন্যদের মন রক্ষা করতে গিয়ে নিজের চাওয়া-পাওয়াকে অনেক সময় গুরুত্ব দিতে পারে না আবু বকর।
শেহেরিয়ার জানান, বাস্তব জীবনেও তার মধ্যে এমন প্রবণতা রয়েছে। কাউকে ‘না’ বলা তার জন্য কঠিন। আবু বকরের মধ্যেও অন্যদের রক্ষা করার মানসিকতা কাজ করে। ছোটবেলা থেকেই মায়ের কাছ থেকে সঠিক ও ভুলের বিষয়ে কঠোর শিক্ষা পাওয়ায় তার মধ্যে এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করেন অভিনেতা। তার ভাষায়, এমন মানসিকতা নিয়ে জীবন কাটানো বেশ চাপের।
জারিয়াবের প্রতি ভালো লাগা কত আগে থেকে?
আবু বকর চরিত্র নিয়ে সাক্ষাৎকারে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন শেহেরিয়ার। তার মতে, জারিয়াবের প্রতি আবু বকরের ভালো লাগা যতটা প্রকাশ পেয়েছে, তার শুরু হয়েছিল আরও আগে। মায়ের সঙ্গে জারিয়াবের বাড়িতে যাতায়াতের সময় থেকেই মেয়েটির প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। এমনকি আড়াল থেকে তাকে দেখার বিষয়টিও চরিত্রটির গল্পে ইঙ্গিত হিসেবে রেখেছেন তিনি।
অভিনেতার ব্যাখ্যায়, জারিয়াব ও আবু বকরের ব্যক্তিত্বের পার্থক্য তাকে এক ধরনের দ্বন্দ্বে ফেলে। একদিকে হৃদয়ের চাওয়া, অন্যদিকে বাস্তবতা ও বিপদের হিসাব- এই দুইয়ের টানাপোড়েনই চরিত্রটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নাটকের বিভিন্ন দৃশ্যে আবু বকরের ভালো লাগার ছোট ছোট ইঙ্গিত ছড়িয়ে দিয়েছেন বলেও জানান শেহেরিয়ার। উদাহরণ হিসেবে তিনি দুপুরের খাবারের একটি দৃশ্যের কথা বলেন। সেখানে আবু বকর জারিয়াবকে জানায়, সে পাস্তা পছন্দ করে। জারিয়াব জানতে চায়, বিষয়টি সে কীভাবে জানল। উত্তরে আবু বকর জানায়, তার খালা কিশওয়ার একবার বলেছিলেন।
শেহেরিয়ারের মতে, কাউকে ভালো না বাসলে তার পছন্দের এমন ছোটখাটো বিষয় মনে রাখার কথা নয়। চরিত্রটির এই সূক্ষ্ম অনুভূতি ও আচরণের কারণেই আবু বকর দর্শকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন