ডিসেম্বর মাসে চাকরিজীবীদের জন্য টানা চার দিনের ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের সরকারি ছুটি এবং পরবর্তী দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার মাত্র এক দিনের ছুটি নিতে পারলেই মিলবে এই দীর্ঘ অবকাশ। ফলে বছরের শেষ মাসে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভ্রমণ কিংবা ব্যক্তিগত কাজে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করতে পারবেন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মী।
২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর বুধবার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি উদ্যাপন করা হয় এবং সরকারি ছুটি পালন করা হয়।
এবার বিজয় দিবসের ছুটি পড়েছে বুধবার। এর পরদিন ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সরকারি কর্মদিবস। তবে এই দিনটিতে কেউ যদি এক দিনের নৈমিত্তিক ছুটি বা বার্ষিক ছুটি নিতে পারেন, তাহলে পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে টানা চার দিনের অবকাশ কাটানোর সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ, বাড়তি ছুটি নিতে হবে মাত্র এক দিন।
ছুটির হিসাব অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর বুধবার থেকে শুরু হবে এই অবকাশ। বুধবার মহান বিজয় দিবসের সরকারি ছুটির পর ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ব্যক্তিগত বা বার্ষিক ছুটি নিতে হবে। এরপর ১৮ ডিসেম্বর শুক্রবার এবং ১৯ ডিসেম্বর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় আর আলাদা করে কোনো ছুটির প্রয়োজন হবে না। সব মিলিয়ে বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত টানা চার দিন কর্মস্থলের বাইরে থাকার সুযোগ তৈরি হবে।
কোন দিন কী ছুটি থাকছে?
১৬ ডিসেম্বর, বুধবার: মহান বিজয় দিবসের সরকারি ছুটি।
১৭ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার: এক দিনের নৈমিত্তিক বা বার্ষিক ছুটি নিতে হবে।
১৮ ডিসেম্বর, শুক্রবার: সাপ্তাহিক ছুটি।
১৯ ডিসেম্বর, শনিবার: সাপ্তাহিক ছুটি।
এই ছুটির সমন্বয় বিশেষ করে তাদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে, যারা বছরের শেষ দিকে পরিবারকে সময় দিতে কিংবা কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। টানা চার দিনের ছুটি পেলে দেশের ভেতরে স্বল্প সময়ের ভ্রমণ, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাওয়া কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ পাওয়া যাবে। কর্মব্যস্ততার কারণে যারা দীর্ঘ সময়ের অবকাশ পান না, তাদের জন্যও এটি হতে পারে ভালো একটি সুযোগ।
বিশেষ করে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকরিজীবীদের মধ্যে এ ধরনের ছুটির সমন্বয় নিয়ে আগ্রহ তৈরি হতে পারে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের ছুটির নীতিমালা এক নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানে নৈমিত্তিক ছুটি বা বার্ষিক ছুটির অনুমোদন নির্দিষ্ট নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই পরিকল্পনা করার আগে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ছুটির নিয়ম জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
যারা ডিসেম্বরের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে চান, তাদের আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। বিশেষ করে ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবারের ছুটি নিশ্চিত করতে হবে। কর্মস্থল থেকে ছুটি অনুমোদন পাওয়া গেলে ১৬ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। বছরের শেষ মাসে মাত্র এক দিনের বাড়তি ছুটিতেই মিলতে পারে এই দীর্ঘ বিরতি।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন