২০০৪ সালের বলিউড সিনেমা ‘ম্যায় হুঁ না’-তে মিস চাঁদনি চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন সুস্মিতা সেন। তাঁর সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস ও ফ্যাশন স্টাইল আজও অনেকের কাছে স্মরণীয়। দুই দশকেরও বেশি সময় পর অভিনেত্রীর নতুন একটি সাজ দেখে অনুরাগীদের মনে আবারও ফিরে এসেছে সেই পরিচিত মিস চাঁদনির স্মৃতি। এবার নজর কেড়েছে তাঁর পরা রুবি-লাল শাড়ি।

সম্প্রতি সুস্মিতা সেনকে দেখা গেছে একায়া বেনারসের নকশা করা বিলাসবহুল হাতে বোনা সিল্কের শাড়িতে। গাঢ় লাল রঙের শাড়িটির সঙ্গে মানানসই ব্লাউজ পরেছিলেন তিনি। শাড়ির রং, বুনন ও সাবলীল ড্রেপিংয়ে ফুটে উঠেছে রাজকীয় আভিজাত্য। তাঁর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এই সাজ যেন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

শাড়ির প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। স্টাইলিস্ট থেইয়া টেকচান্দানির সাজানো এই লুকের ছবি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘শাড়ি আমার কী যে ভালো লাগে! আর যখন সেটা লাল রঙের হয়… তখন তা আবেগে ভরা এক জীবনের নিখুঁত প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে!’ তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, শাড়ির প্রতি ভালোবাসা শুধু পোশাকের পছন্দ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আবেগ ও ব্যক্তিগত রুচি।

Cartier Panther ব্রোচ ও মুক্তার ঝুমকায় সুস্মিতা সেন
লাল শাড়ির সঙ্গে Cartier-এর বিশেষ ব্রোচ ও মুক্তার ঝুমকা পরেছেন সুস্মিতা সেন। ছবি: সংগৃহীত

সুস্মিতার সাজে শাড়ির পাশাপাশি বিশেষ নজর কেড়েছে গয়না। তিনি পরেছিলেন কার্টিয়েরের ‘প্যান্থের দে কার্টিয়ের’ ব্রোচ। বাঘের অবয়বে তৈরি এই গয়নাটিতে রয়েছে পান্নার চোখ, অনিক্সের ছোপ ও নাক। পাশাপাশি এতে বসানো হয়েছে মোট ২.৮৮ ক্যারেটের ৬০৪টি ব্রিলিয়ান্ট-কাট হীরা। ছোট এই অনুষঙ্গই তাঁর সাজে যোগ করেছে বাড়তি ঝলক।

ব্রোচের সঙ্গে ছিল পাথর বসানো মুক্তার ঝুমকা। ঐতিহ্যবাহী শাড়ির সঙ্গে আধুনিক বিলাসবহুল গয়নার এই সমন্বয় সাজটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। একদিকে নজরকাড়া ব্রোচ, অন্যদিকে মুক্তার ঝুমকার কোমল আভা, সব মিলিয়ে গয়না নির্বাচনে ছিল রুচিশীলতার ছাপ।

মেকআপেও ছিল পরিমিত গ্ল্যামারের ছোঁয়া। মুখে ছিল ম্যাট বেস, চোয়ালের রেখা স্পষ্ট করতে শার্প কনট্যুরিং, গালে কোরাল ব্লাশ এবং ত্বকে হালকা হাইলাইটার। চোখের সাজে সফট স্মোকি আই ও কাজলের ব্যবহার লুকটিতে যোগ করেছে নাটকীয়তা। ঠোঁটের সাজও ছিল সামগ্রিক মেকআপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

চুল খোলা রেখেছিলেন সুস্মিতা। ঢেউ খেলানো চুলে ভলিউম আনতে একপাশে সিঁথি করেছিলেন তিনি। এই হেয়ারস্টাইলই অনেকের মনে ফিরিয়ে এনেছে ‘ম্যায় হুঁ না’ সিনেমার সেই পরিচিত মিস চাঁদনিকে।

সুস্মিতা সেনের এই লুকের আকর্ষণ শুধু দামি শাড়ি কিংবা ঝলমলে গয়নায় সীমাবদ্ধ নয়। ঐতিহ্যবাহী পোশাক, পরিমিত মেকআপ ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতির সমন্বয়েই তৈরি হয়েছে তাঁর সাজের বিশেষত্ব। সময়ের সঙ্গে ফ্যাশনের ট্রেন্ড বদলালেও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই সাজের আবেদন যে কখনো পুরোনো হয় না, নতুন এই লুকে যেন আবারও সেটিই বুঝিয়ে দিলেন অভিনেত্রী।