নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ শ্রী সুদাম চন্দ্র
আলো ও অন্ধকারের চিরন্তন লড়াইয়ে আলোর বিজয়ের বার্তা নিয়ে আবারও ফিরে এসেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্যামা পূজা ও দীপাবলি। আজ ৮ নভেম্বর (রোববার) কার্তিক অমাবস্যা তিথিতে দেবী কালীর আরাধনা ও দীপাবলি উদযাপনে মুখর হয়ে উঠবে সারা দেশের বিভিন্ন মন্দির ও সনাতনী জনপদ।
দেবী কালীর মহিমা ও পূজার আচার
হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী দেবী কালী হলেন শক্তি, সাহস ও অশুভ বিনাশের প্রতীক। শাক্ত উপাসনায় তিনি জগজ্জননী, মহাকালী ও মহামায়া রূপে পূজিত হন। ভক্তরা জীবনের সব ধরনের ভয়, সংকট ও অকল্যাণ থেকে মুক্তি এবং পরিবার ও সমাজের মঙ্গল কামনায় তাঁর আরাধনা করে থাকেন।
পুরাণে দেবীর অসুরবিনাশী রূপের বিশদ বর্ণনা পাওয়া যায়। দেবী মাহাত্ম্যে চণ্ড-মুণ্ড ও রক্তবীজ বিনাশের কাহিনি মূলত দেবীশক্তির মহিমাকে তুলে ধরে। দেবীর এক হাতে থাকা খড়্গ হলো অন্যায় ও অজ্ঞানতা বিনাশের প্রতীক, আর অন্য হাতের অভয়মুদ্রা ভক্তের মনে সাহস ও আশ্রয়ের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
কার্তিক অমাবস্যার মহানিশায় (গভীর রাতে) শাক্ত রীতি অনুসরণ করে দেবীর পূজা করা হয়। পূজার আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে থাকে পবিত্র মন্ত্রোচ্চারণ, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, ভোগ নিবেদন ও আরতি। অনেক মন্দিরে রাতভর চলে ভজন-কীর্তন ও ভক্তিমূলক ধর্মীয় সংগীতের আসর। ভক্তরা মায়ের আশীর্বাদ প্রার্থনা করে জবা ফুল, ফলমূল ও মিষ্টি নিবেদন করেন।
দীপাবলির তাৎপর্য
শ্যামা পূজার সঙ্গে একই দিনে পালিত হয় আলোর উৎসব দীপাবলি। সারি সারি প্রদীপ জ্বালিয়ে ঘরবাড়ি, মন্দির ও পূজামণ্ডপ সাজিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে এই উৎসবের মূল আনন্দ প্রকাশিত হয়। উপনিষদের ‘তমসো মা জ্যোতির্গময়’ (অন্ধকার থেকে আলোতে উত্তরণ) বাণীই মূলত দীপাবলির আধ্যাত্মিক ভিত্তিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
দীপাবলি শুধু আলোকসজ্জার উৎসব নয়; এটি মানুষের অন্তরে জ্ঞান, বিবেক, সত্য ও শুভবোধ জাগিয়ে তোলার প্রতীকী রূপ। বাংলার কার্তিক অমাবস্যার অন্যতম প্রধান আয়োজন শ্যামা পূজা হলেও ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই উৎসবের সঙ্গে লক্ষ্মীপূজা এবং শ্রীরামের অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তনসহ নানা ঐতিহাসিক ধর্মীয় ঐতিহ্য যুক্ত রয়েছে।
দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ
নওগাঁর পিরোজপুর (দুবলহাটী) এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্যামা পূজা ও দীপাবলি উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জার পাশাপাশি পূজা, আরতি, প্রসাদ বিতরণ ও নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
ধর্মীয় এই উৎসব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করার চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি করে। সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও অন্যায় দূর করে সর্বত্র সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দেওয়াই এবারের দীপাবলির মূল প্রত্যয়। একই সঙ্গে শব্দ ও বায়ুদূষণ এড়িয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধবভাবে উৎসব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন