ইরানের দক্ষিণ উপকূলে কেশম দ্বীপে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে ‘প্রতিরক্ষামূলক হামলা’ চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। সোমবার (২ নভেম্বর) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, অল্প সময়ের ব্যবধানে কেশম দ্বীপে কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা সংস্থাটিকে জানান, বিস্ফোরণের সময় দ্বীপটির আকাশে দুটি উড়োজাহাজ উড়তে দেখা গেছে। কেশম দ্বীপটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, কেশম দ্বীপের পাশাপাশি বন্দরনগরী বন্দর লেঙ্গেহ থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, শব্দগুলো সমুদ্রের দিক থেকে আসছিল। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট স্থান, ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা সীমিত করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কর্মকর্তারা একে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে একই ধরনের তথ্য উঠে এসেছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে ফক্স নিউজ ও অ্যাক্সিওসের সাংবাদিকদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন একটি উড়োজাহাজ লক্ষ্য করে আইআরজিসির গুলির জবাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
ফক্স নিউজের সাংবাদিক জেনিফার গ্রিফিন এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় পরিসরের সামরিক অভিযান শুরুর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ইচ্ছাকৃতভাবেই হামলার বিষয়টি প্রচারের বাইরে রেখেছিল, যাতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু হয়েছে- এমন বার্তা না যায়।
এর আগে সোমবার আইআরজিসি দাবি করেছিল, ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কেশম দ্বীপের দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গোয়েন্দা ড্রোন আটক করেছে তারা। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করার দাবিও করে বাহিনীটি। তবে এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিস্ফোরণ ও হামলার বিষয়ে ইরান কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন