ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব কে পাচ্ছেন, তা জানা যাবে আগামী রোববার। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ এদিন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। নতুন সরকার গঠনের দৌড়ে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট এগিয়ে থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধের কারণে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সংসদে নির্বাচিত দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান হারজোগ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি এ খবর প্রকাশ করে। প্রেসিডেন্ট জানান, ১২০ আসনের নেসেটের মধ্যে ৬৭ জন আইনপ্রণেতার প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।
অন্যদিকে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও লিকুদ পার্টির নেতা বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে সুপারিশ করেছে ৪৬ আসনের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো। বাকি সাত আইনপ্রণেতার প্রতিনিধিত্বকারী দল কোনো প্রার্থীকে সুপারিশ করেনি। ফলে দলগুলোর সমর্থনের হিসাবে আইজেনকোট এগিয়ে থাকলেও তাঁকেই দায়িত্ব দেওয়া হবে, এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই।
হারজোগ বলেন, আলোচনার ফলাফল দেখে পরিস্থিতি সহজ মনে হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক জোটগুলোর মধ্যে এবং একই জোটের দলগুলোর পারস্পরিক আপত্তি থাকায় কে সরকার গঠন করতে পারবেন, তা স্পষ্ট নয়। এ কারণে তিনি কয়েকটি দলের নেতাদের সঙ্গে আলাদাভাবে আরও আলোচনা করবেন। তাঁর লক্ষ্য, সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠনের পথ বের করা।
এর আগে গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে নতুন সরকার গঠনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থন ও সমঝোতা জরুরি হয়ে পড়েছে। নির্বাচনের পর থেকে দেশটিতে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা চলছে।
ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করেন। এরপর সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করে একজন আইনপ্রণেতাকে দায়িত্ব দেন। দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তি সাধারণত ২৮ দিনের মধ্যে সরকার গঠনের চেষ্টা করেন। প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট তাঁকে আরও ১৪ দিন সময় দিতে পারেন।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন