মুসলিম ধর্মীয় বক্তা ডা. জাকির নায়েককে ভারতে প্রত্যর্পণ না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে মালয়েশিয়া। তাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি দেশটির সরকার। এমনকি এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদনও পায়নি মালয়েশিয়া। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দেশটির সংসদে দেওয়া এক লিখিত জবাবে এ অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল।
মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং দেশটির ১৯৯২ সালের প্রত্যর্পণ আইনের বিধান বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠানোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
সংসদে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাকির নায়েককে ভারতে প্রত্যর্পণ না করার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। এ বিষয়ে ভারতকে কোনো প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়নি। বর্তমানে তার প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতের কাছ থেকে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন সরকারের কাছে আসেনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান সংসদ সদস্য দাতুক ড. আহমাদ মারজুক শারির এক প্রশ্নের জবাবে। ওই সংসদ সদস্য জানতে চেয়েছিলেন, জাকির নায়েককে ফেরত চেয়ে ভারত সর্বশেষ কবে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে এবং দেশটির দেওয়া তথ্য-প্রমাণ মালয়েশিয়ার প্রচলিত আইন ও দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্ত পূরণ করে কি না।
সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারত প্রথমবার ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়। এরপর ২০২০ সালের ২৯ মে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করে নয়াদিল্লি। তবে এরপর নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পায়নি মালয়েশিয়া।
এদিকে, গত সেপ্টেম্বর মাসে জাকির নায়েকের প্রত্যর্পণ নিয়ে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়। পরে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান দেশটির বিরোধী দলের নেতারা।
মালয়েশিয়ার বিরোধী দল পাসের মহাসচিব দাতুক সেরি তাকিউদ্দিন হাসান দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় জাকির নায়েকের প্রত্যর্পণ নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, তা প্রকাশের দাবি জানান। পাশাপাশি ভারতের দেওয়া তথ্য-প্রমাণ মালয়েশিয়ার আইনি শর্ত পূরণ করে কি না, সেটিও স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, অর্থপাচার ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অভিযোগে ভারত সরকার জাকির নায়েককে দেশে ফিরিয়ে নিতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জাকির নায়েকের অবস্থানও ভিন্ন। তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যে জাকির নায়েকের প্রত্যর্পণ নিয়ে দেশটির বর্তমান অবস্থান আবারও পরিষ্কার হয়েছে। ভারতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও বিদ্যমান আইনি বিধান বিবেচনায় তাকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি মালয়েশিয়া সরকার। ফলে আপাতত দেশটিতে তার অবস্থান নিয়ে ভারতের প্রত্যর্পণ প্রচেষ্টা নতুন কোনো অগ্রগতি পায়নি।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন