দেশের তৃতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বঙ্গভবন পরিদর্শনের সুযোগ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার ইতিহাস, সাংবিধানিক গুরুত্ব ও কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাবে। এ লক্ষ্যে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের বঙ্গভবন ভ্রমণ সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। নির্ধারিত নিয়ম মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ পরিদর্শনে অংশ নিতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে দেশের মাদরাসাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম তৌহিদুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় সারাদেশের মাদরাসার অধ্যক্ষ ও সুপারদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গভবন পরিদর্শনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রণীত ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের বঙ্গভবন ভ্রমণ সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৬’ উল্লেখ করে এ নির্দেশনা জারি করে শিক্ষাবোর্ড। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরেও দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, বঙ্গভবন পরিদর্শনের জন্য শিক্ষার্থীরা মোট ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় পাবেন। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বঙ্গভবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখার পাশাপাশি এর ইতিহাস ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানার সুযোগ থাকবে। পুরো পরিদর্শন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

পরিদর্শনের শুরুতে শিক্ষার্থীদের সকাল ১০টায় বঙ্গভবনে প্রবেশ করতে হবে। এরপর বঙ্গভবনের ইতিহাস ও কার্যক্রমবিষয়ক ভিডিও প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা তোশাখানা জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবেন। এর মাধ্যমে বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন তাঁরা।

এ ছাড়া বঙ্গভবনের মূল ভবনের সামনে ছবি তোলার সুযোগ থাকবে শিক্ষার্থীদের। পরিদর্শন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তাঁরা এয়ার রেইড শেল্টার এবং হরিণ পার্কও ঘুরে দেখতে পারবেন। অর্থাৎ নির্ধারিত দেড় ঘণ্টার মধ্যেই বঙ্গভবনের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে এই পরিদর্শনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সর্বনিম্ন ৩০ জন এবং সর্বোচ্চ ৪০ জন শিক্ষার্থী বঙ্গভবন ভ্রমণে অংশ নিতে পারবেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিন থেকে চারজন শিক্ষক প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে হবে।

পরিদর্শনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান করে বঙ্গভবনে আসতে হবে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের পোশাকের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে বঙ্গভবনের ইতিহাস ও কার্যক্রম সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। তৃতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এ সুযোগ চালুর ফলে তাঁরা দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি এর ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক গুরুত্ব সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।