আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর দেখা যাবে না অস্ট্রেলিয়ার বিধ্বংসী অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে। দীর্ঘ ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই অস্ট্রেলীয় তারকা। তবে ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি। মেলবোর্ন স্টার্সের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন হওয়ায় ২০২৭-২৮ মৌসুম পর্যন্ত বিগ ব্যাশ লিগে দেখা যাবে তাকে।

এর আগে গত বছরের জুনে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন ম্যাক্সওয়েল। তবে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রেখেছিলেন। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। যদিও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় দলটি। গত ফেব্রুয়ারিতে ওমানের বিপক্ষে ম্যাচটি হয়ে থাকল দেশের হয়ে তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সেই ম্যাচে বল হাতে দুটি উইকেট পেলেও ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি এই অলরাউন্ডার।

‘দ্য ফাইনাল ওয়ার্ড’ পডকাস্টে নিজের অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলেছেন ম্যাক্সওয়েল। তিনি জানান, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ও পরে অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তবে দলীয় ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে অবসর নেওয়ার জন্য কোনো চাপ দেওয়া হয়নি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। সামনে কয়েকটি সিরিজ থাকলেও অস্ট্রেলিয়া দল ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিচ্ছিল। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে তরুণ ক্রিকেটাররা সুযোগ পেয়ে ভালো করায় তাদের ওপর আস্থা আরও বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ম্যাক্সওয়েলের অর্জনের তালিকাও বেশ সমৃদ্ধ। দুবার ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের আসরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। শিরোপা নিশ্চিত করা ম্যাচে জয়সূচক রান এসেছিল তার ব্যাট থেকেই। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর আগে নিজের ঘরের মাঠ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) শেষবার খেলার ইচ্ছা ছিল তার। এ নিয়ে ক্ষীণ আশা থাকলেও দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন বলে জানান ম্যাক্সওয়েল। ২০২৮ সালের অলিম্পিক সামনে রেখে আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসে দলে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তাই নতুন ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

জাতীয় দলের বাইরে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও নিয়মিত খেলেছেন ম্যাক্সওয়েল। গত সেপ্টেম্বরে ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগের প্রথম আসরে বেলফাস্ট উলভসকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। এরপর ভিক্টোরিয়ার হয়ে ওয়ানডে কাপেও দুটি ম্যাচ খেলেন। তবে সতীর্থদের নিজের অবসরের সিদ্ধান্ত জানানোর মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। ম্যাক্সওয়েল বলেন, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সতীর্থদের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন ও সহযোগিতার কারণে বিদায়ের কথা জানাতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। বাকি সময়টুকুতে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলার জন্য শরীরকে আরও সময় দিতে চান তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৩০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ম্যাক্সওয়েল। ১৫৪ দশমিক ৪২ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ২ হাজার ৮৯৭ রান এবং বল হাতে নিয়েছেন ৫১ উইকেট। এই সংস্করণে তার সেঞ্চুরি পাঁচটি, যা ভারতের রোহিত শর্মার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্ব রেকর্ড। টেস্ট ক্রিকেটে সাতটি ম্যাচ খেলে করেছেন ৩৩৯ রান। ২০১৭ সালে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে রাঁচিতে করা ১০৪ রান তার সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংস। হাঁটুর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্যও এখন সময় দিতে চান এই ক্রিকেটার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সাদা বলের সিরিজে মেলবোর্নের টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খেলার চিন্তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিগ ব্যাশের আগে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অধ্যায় শেষ হলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তার ব্যাট-বলের ঝলক দেখার অপেক্ষায় থাকবেন ভক্তরা।