হলিউডে ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া গ্যাল গ্যাদত এবার নিজ দেশ ইসরায়েলে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও সেখানে ইসরায়েলি পরিচয় নিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। পরিবার নিয়ে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এর অনুষ্ঠান ‘এরেতজ নেহেদেরেত’-এ যুক্তরাষ্ট্রে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন গ্যাল। প্রায় ১২ বছর ধরে দেশটিতে বসবাস করছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বাইরে বের হলে অনেকেই তাঁকে চিনে ফেলেন। এমনকি কখনো সুপারমার্কেটে যাওয়ার সময়ও মুখে মাস্ক পরতে হয়।

অভিনেত্রীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব ও ইহুদিবিদ্বেষ বেড়েছে। ইসরায়েলের পরিস্থিতি নিয়ে তাঁকে অন্যদের কাছে ব্যাখ্যা দিতে হয় বলেও জানান তিনি। এমন পরিস্থিতিতে পরিবার নিয়ে ইসরায়েলে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন কি না, অনুষ্ঠানে তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়।

জবাবে গ্যাল জানান, দেশে ফেরার ইচ্ছা তাঁদের রয়েছে। সেখানে একটি বাড়িও তৈরি করছেন তাঁরা। তবে কবে নাগাদ স্থায়ীভাবে ফিরবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাননি অভিনেত্রী। তাঁর স্বামী ব্যবসায়ী জ্যারন ভারসানো। তাঁদের চার মেয়ের মধ্যে তিনজনের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে, অন্যজনের ইসরায়েলে।

ইসরায়েলে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও অভিনয় ছাড়ার কোনো ঘোষণা দেননি গ্যাল। বরং ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে একবার অভিনয় ছেড়ে দেশে ফিরে পড়াশোনা শেষ করার কথা ভেবেছিলেন তিনি। গত সেপ্টেম্বরে ‘দ্য জিউইশ ক্রনিকল’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথা জানান অভিনেত্রী। পরে ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’ চরিত্রের প্রস্তাব তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

২০০৯ সালে ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ সিনেমার মাধ্যমে হলিউডে যাত্রা শুরু করেন গ্যাল গ্যাদত। ২০১৬ সালে ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান: ডন অব জাস্টিস’-এ ওয়ান্ডার ওম্যান চরিত্রে অভিনয়ের পর তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ে। পরের বছর একই চরিত্রের একক সিনেমা তাঁকে আন্তর্জাতিক তারকাখ্যাতি এনে দেয়। এরপর ‘জাস্টিস লিগ’, ‘ওয়ান্ডার ওম্যান ১৯৮৪’, ‘ডেথ অন দ্য নাইল’, ‘হার্ট অব স্টোন’, ‘স্নো হোয়াইট’ ও ‘রেড নোটিস’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।