যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার মেইল-ইন ব্যালট নিয়ে। অঙ্গরাজ্যটির ২০ হাজারের বেশি ভোটারের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গণনায় বাধা দেওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ফলে এসব ব্যালট গণনায় আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের দিন সুপ্রিম কোর্ট এই সিদ্ধান্ত দেন। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, ক্যালিফোর্নিয়ায় এমন ব্যক্তিদের কাছেও মেইল-ইন ব্যালট পাঠানো হয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। এসব ব্যালটের মাধ্যমে অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করে সেগুলো গণনার বাইরে রাখার দাবি জানানো হয়েছিল।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। তাদের দাবি ছিল, ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তাদের ২০ হাজারের বেশি মেইল-ইন ব্যালট আলাদা করে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হোক। প্রশাসনের আশঙ্কা ছিল, এসব ব্যালটের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিরা ভোট দিয়ে থাকতে পারেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যালটগুলো গণনার পথ খোলা থাকল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে নানা অভিযোগ করে আসছেন। তাঁর দাবি, দেশটিতে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি হয় এবং অভিবাসীদের অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিয়ে ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনে কারচুপি করে। বিশেষ করে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার পদ্ধতিকে তিনি এসব অনিয়মের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর এসব অভিযোগের পক্ষে ব্যাপক অনিয়মের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে অঙ্গরাজ্যটির আসনসংখ্যা ৫২টি, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বেশি। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী সিদ্ধান্তের গুরুত্ব অনেক। এর আগে নিম্ন আদালতগুলোও ব্যালট গণনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। আদালতগুলোর যুক্তি ছিল, ফেডারেল সরকারের এমন পদক্ষেপ অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন পরিচালনায় হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অযথা সন্দেহ বাড়াতে পারে।
এদিকে বিভিন্ন গবেষণা ও সরকারি নিরীক্ষায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অযোগ্য ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। বিশেষ করে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা খুব কমই ঘটে। তাই ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যালট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তৈরি করলেও সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে আপাতত সেগুলো গণনার পথ পরিষ্কার হয়েছে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন