গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে রোববার (১ নভেম্বর) গেজেট প্রকাশ করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মজুরি বোর্ড শাখা। নতুন এই বোর্ডের মাধ্যমে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বোর্ডে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি ছাড়াও নিরপেক্ষ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মজুরি বোর্ড শাখা থেকে প্রকাশিত গেজেটে বোর্ডের সদস্যদের নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়েছে। উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০২৬)-এর সংশ্লিষ্ট ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আইনের ১৩৮ ধারার ৩(ক) ও ৩(খ) উপধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে গেজেটে জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, একই আইনের ১৩৯ ধারায় নির্ধারিত কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য গার্মেন্টস শিল্প খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। এই বোর্ডের দায়িত্ব হবে সংশ্লিষ্ট শিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা। এ ক্ষেত্রে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নিরপেক্ষ সদস্যও বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গেজেটে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পক্ষ থেকে তিনি বোর্ডে প্রতিনিধিত্ব করবেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুবকেও মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে বোর্ডে মালিকদের পক্ষ থেকে দুজন প্রতিনিধি থাকছেন।
অন্যদিকে, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার। পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকেও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বোর্ডে শ্রমিকদের পক্ষ থেকেও দুজন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
এ ছাড়া বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের বাইরে তাঁর অন্তর্ভুক্তি বোর্ডের সদস্য কাঠামোয় নিরপেক্ষ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারের এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় নতুন ধাপ শুরু হলো। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্প খাতে শ্রমিকদের বেতন কাঠামো নির্ধারণে মজুরি বোর্ডের ভূমিকা রয়েছে। নতুন বোর্ডের সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে নতুন মজুরি কাঠামোতে শ্রমিকদের বেতন কত হবে, কবে থেকে তা কার্যকর হবে কিংবা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে আসবে, সে সম্পর্কে প্রকাশিত গেজেটে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। ফলে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্টদের অপেক্ষা করতে হবে। বোর্ডের কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং মজুরি নির্ধারণসংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন