ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সংস্থাটি। নতুন এই দাম কার্যকর হওয়ায় এখন থেকে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে ভোক্তাদের আগের তুলনায় অতিরিক্ত ২২৩ টাকা খরচ করতে হবে।

বিইআরসি জানিয়েছে, সোমবার রাত ৮টার পর থেকে নির্ধারিত নতুন দাম কার্যকর হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই মূল্য বহাল থাকবে। অর্থাৎ রাত ৮টার পর যারা এলপিজি সিলিন্ডার কিনবেন, তাদের নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করতে হবে। তবে নতুন মূল্য নির্ধারণের ফলে বাজারে সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রির ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটিও এখন দেখার বিষয়।

এর আগে গত ২৯ অক্টোবর ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। ওই প্রস্তাবে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার কথা বলা হয়েছিল। অর্থাৎ প্রাথমিক মূল্যায়নে সিলিন্ডারপ্রতি ১৩৯ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব উঠে আসে। তবে পরবর্তী সিদ্ধান্তে সেই প্রস্তাবের চেয়েও বেশি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা। প্রাথমিক প্রস্তাবের তুলনায় চূড়ান্ত দাম আরও ৮৪ টাকা বেশি। ফলে আগের দামের তুলনায় মোট ২২৩ টাকা বেশি গুনতে হবে গ্রাহকদের। নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এই দাম অনুসরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দেশের অনেক পরিবার রান্নার কাজে এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সুযোগ নেই, সেখানে রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় এলপিজি। ফলে সিলিন্ডারের দাম বাড়লে সরাসরি বাড়তি খরচের মুখে পড়তে হয় সাধারণ ভোক্তাদের। একই সঙ্গে হোটেল, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও এলপিজির ব্যবহার থাকায় মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব তাদের ব্যয়েও পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। সংস্থাটির নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে সিলিন্ডার বিক্রির কথা। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে ১২ কেজি এলপিজির দাম ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করায় এখন থেকে নতুন এই মূল্যই কার্যকর থাকবে। পরবর্তী আদেশে দাম পরিবর্তন করা হলে সে অনুযায়ী নতুন মূল্য অনুসরণ করতে হবে।