সহকারী জজ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ১৯তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন অসংখ্য চাকরিপ্রার্থী। তবে প্রাথমিক ধাপ পেরিয়ে লিখিত পরীক্ষায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ৩৪৩ জন। অথচ এই নিয়োগের মাধ্যমে সহকারী জজের ২৫০টি পদ পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে লিখিত পরীক্ষার আগেই প্রতিযোগীর সংখ্যা অনেকটাই কমে এসেছে।

রোববার বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয় ১৯তম বিজেএস পরীক্ষা, ২০২৬-এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে। প্রকাশিত ফলাফলে ৩৪৩ জন প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষার জন্য যোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। ২৫০টি পদের বিপরীতে এতসংখ্যক প্রার্থী উত্তীর্ণ হওয়ায় প্রতি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ১ দশমিক ৩৭ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রার্থীদের ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হয়েছে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৩৪৩ জন এই নির্ধারিত নম্বর পেতে সক্ষম হয়েছেন। অর্থাৎ, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে না পারায় অনেক প্রার্থী পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ পাননি।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ১৫০তম সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ন্যূনতম উত্তীর্ণ নম্বর অর্জনকারী ৩৪৩ জনকেই লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে সহকারী জজের ২৫০টি পদের বিপরীতে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেবেন এই প্রার্থীরা। তবে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ পরবর্তী সব ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করতে হবে।

প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ লিখিত পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পরবর্তী সময়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এখন থেকেই প্রার্থীদের বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা, আইনসংক্রান্ত ধারণা এবং উত্তর লেখার দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, চূড়ান্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এদিকে লিখিত পরীক্ষার তারিখ, সময় ও কেন্দ্রসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এখনো জানানো হয়নি। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন জানিয়েছে, এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। প্রার্থীদের নিয়মিত কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.bjsc.gov.bd অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল পাওয়া গেলে তা সংশোধনের অধিকারও কমিশন সংরক্ষণ করেছে।